রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নাজমুল ইসলামের বাড়িতে হামলা, চাঁদা দাবি ও নারীদের মারধর করে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলি তার স্বামী মিজানুর মোল্যা তার ভাই তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে গেলে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ দাগের সাড়ে ৪ শতাংশ জমির ২ শতাংশ জমি নিয়ে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলি তার স্বামী মিজানুর মোল্যা তার ভাই তরিকুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের মৃত সৈয়দ কামরুজ্জামান তার স্ত্রী সালেহা মেগম ও ছেলে নাজমুল ইসলামের জমির মালিকানা দাবি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এ নিয়ে বিগত সময়ারি আদালতে মামলা হলে মালিকানার রায় পান ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম। তবে এ রায়কে না মেনে অভিযুক্তরা ওই ২ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করলে নাজমুল ইসলাম ও তার পরিবার বাধা দেন।

এর জেরে গত সোমবার (৮জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম তুলির স্বামী মিজানুর মোল্যা তার ভাই তরিকুল ইসলাম, নাঈম মোল্যা, নাদিম মোল্যা শামীম মোল্যাসহ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন লোক নিয়ে ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুযোগে বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনা টের পেয়েছে বাড়িতে থাকা নারীরা ঘরে তালা দিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন। এদিকে ভুক্তভোগী নাজমুল এর চাচাতো বোন হাসিবা আক্তার দেখতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা এন্ড্রুয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়ছে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী নাজমুলের মা সালেহা বেগম, তার চাচা সৈয়দ আহাদ, প্রবাসী নাজমুলের স্ত্রী, শামীমা আক্তা মুন্নি, আহাদের কন্যা হাসিবা খানম ও স্মৃতি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের একটি জমি নিয়ে মিজানুর মোল্যা, তরিকুল ইসলাম, নাইম মোল্যা, নাদিম মোল্যাসহ ১০০ থেকে ১৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের বাড়ির উপর হামলা ও জমি দখলের চেষ্টা করে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমাদের হুমকি, ধমকি ও ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না চাইলে গতকাল সোমবার বিকেলে আমাদের বাড়ির উপর এসে আমাদের মারতে আসে এমনকি আমাদের একজন মেয়েকে মারধর করে মোবাইল নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের নিকট এর বিচার চাই।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কথা হয় অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের সাথে। এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এসবের সাথে আমরা জড়িত না'।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, সোমবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(আরএম/এসপি/জুন ০৯, ২০২৬)