আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।’

বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা ভালোবাসি।
সংখ্যাগুলো দারুণ। ‘আমি সত্যিই মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।
’ তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক এবং ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে আসবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, তেলের সরবরাহ সচল রাখতে তার প্রশাসন বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার বিশ্বাস, সংঘাতের অবসান ঘটলে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে এবং মূল্যস্ফীতিও দ্রুত হ্রাস পাবে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও বৈশ্বিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চাপে পড়তে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুললেও প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মূলত কিছু খাতে মূল্যহ্রাস এবং ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কমে আসার সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরেছেন।

প্রেসিডেন্ট ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আইওয়া সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোল ১.৮৫ ডলারে বিক্রি হতে দেখেছেন এবং যোগ করেন যে, আমরা খুব শিগগিরই সেই স্তরে ফিরে আসব।

তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড এখনও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি
(ওএস/এএস/জুন ১১, ২০২৬)