স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না, তিনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছিন্নভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একত্রিত করে তিনি গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

শনিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ‘জাতীয় প্রেসক্লাব’ এর আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়- এই উপলব্ধি থেকেই জিয়াউর রহমান বিএনপিকে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক সংকটের পর আন্তর্জাতিক মহলে ‘বাস্কেট কেস’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন জিয়াউর রহমান।
তিনি শুধু অর্থনীতির উন্নয়নেই নয়, মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গ্রাম থেকে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তিনি তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা ছিল অসাধারণ। সাধারণ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। তার শাহাদাতের পর লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, কৃষি গবেষণা, শিল্পায়ন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিক্ষা খাতের বিকাশে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ভিত্তি রচনাতেও তার ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতেও তিনি সফল হয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার সততা। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। তবে ইতিহাস তাকে যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমানে সংবাদমাধ্যম নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম তার স্বাধীন চরিত্র হারিয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সাংবাদিক সমাজের পাশে থাকবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা।

(ওএস/এএস/জুন ১৪, ২০২৬)