ফরিদপুরে সরকারি জমি দখল: পর্ব- ২
সড়কের জমি গিলে খেতেই আ.লীগ নেতাদের সাহায্যে জেলা পরিষদ থেকে কিছু জমি লিজ নেয় দুর্বৃত্তরা
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে তেঁতুলতলা নামক স্থানে সরকারের অধিগ্রহণকৃত সড়ক বিভাগের ৩০ শতাংশেরও বেশি জমি দখল করতেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পার্শ্ববর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা। এক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয় বরং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কিছু অসাধু দখলবাজদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ ভূমি খেকো দূর্বৃত্ত বাহিনী। হঠাৎ বড়লোক বনে যাওয়া হামজা শেখকে প্রথম সম্পৃক্ত করা হয় ইনভেস্টর হিসেবে। পরে তাকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলে দূর্বৃত্তদের কার্যক্রম। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তেঁতুলতলায় এক চায়ের দোকানে বসে সিদ্ধান্ত হয়- সড়কের জমি দখলের। তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অমিতাভ বোসের সাথে কয়েকটি ছবি ছিলো এ সরকারি জায়গা অবৈধ দখল সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাদস্য লিটন সাহার। নেতার সাথে তোলা ওই ছবিগুলো দেখিয়ে এ জমি দখল করে, পুকুর ভরাট করার পরিকল্পনা করে মার্কেট নির্মাণের করার প্রস্তাব দেন লিটন দাস। এক্ষেত্রে ওই এলাকার কাকে কাকে রাখলে এ জমি পুরোপুরি হজম করতে পারবেন, এমনকি রাজনৈতিক পালাবদল হলেও কাকে কাকে সামনে রেখে তাদের টার্গেট সফল করবেন তা পূর্বেই নির্ধারণ করা হয় ওই মিটিং থেকে। কিন্তু এতো নীচু জমি ভরাট করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হবে- এমন ভাবনায় ইনভেস্টর খুঁজতে থাকে ওই সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা। আওয়ামী লীগের আমল থেকে একটু একটু ভরাট করার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে তারা আর তা সফল করতে পারেন না। পরে লিটন সাহার বুদ্ধিতে হামজা শেখকে সামনে রেখে ফরিদপুর পৌরসভা, স্থানীয় ভুমি অফিস ঘুরে জমিটি সওজের এ জমি লিজ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সবচেয়ে সমালোচিত কর্মকর্তা সার্ভেয়ার শিপনকে হাত করে দূর্বৃত্তরা। শিপন তাদের সহযোগিতা করবে বলে মোটা অংকের টাকা খেয়ে পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্তের দাবি রাখে বৈকি। শিপন এ মর্মে পরামর্শ দেন যে, এই জমি দখলে নিতে হলে এ জমির পিছনে থাকা জেলা পরিষদের জমি অধিগ্রহণ আগে করতে হবে; তারপর সামনে জমি অটোমেটিকলি আপনাদের গিলে খেতে পারবেন। সার্ভেয়ার শিপন তখন এ চক্রকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন। এমনকি সড়ক বিভাগ থেকে এ জমি লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রেও। এরপর, সার্ভেয়ার শিপনের কথায় জেলা পরিষদের ওই জমি লিজ নিতে দূর্বৃত্তরা সখ্যতা গড়ে তুলেন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী একাধিক নেতার সাথে। এরই অংশ হিসেবে হামজা শেখের বাড়ীতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে মাঝে মাঝে তাঁদের ভুঁড়ি ভোজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে সহায়তা প্রদান করে ওই নেতাদের অতি কাছের মানুষ বনে যান হামজা শেখ-উজ্জল শেখ গং। অতঃপর ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের একান্ত সহযোগিতায় সড়কের ওই জমি গিলে খেতে তার পাশে থাকা জেলা পরিষদের কিছু জমি তেরছাভাবে জেলা পরিষদ থেকে লিজ নেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করেন এ সুসংগঠিত অবৈধ দখলবাজ চক্রটি।
এরপরেই পুরোপুরি ল্যাম লাইটে চলে আসেন অতীব দরিদ্র শ্রেণীর কৃষক পরিবার থেকে বেড়ে উঠা এবং অস্বাভাবিকভাবে হঠাৎ করে বিপুল অর্থবৃত্তের মালিক বনে যাওয়া হামজা শেখ গং। এরপর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ওই নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ও সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার শিপনকে হাত করে তাকে কাঠের চশমা পরিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসন কর্তৃক সড়ক বিভাগের জন্য অধিগ্রহণকৃত মহাসড়কের কোলঘেষা সড়কের নীচু জায়গা ভরাট করার কাজ শুরু করে এ চক্রটি। পুকুর ও খাল বিশিষ্ট ওই জায়গা একটু একটু করে ভরাট করে প্রায় ৭০% জমি ভরাট করে ফেলা হয় আওয়ামী লীগের শাসন আমলেই। ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কাল বিলম্ব না করে রাতের অন্ধকার বিএনপি'র স্থানীয় কিছু নেতাদের টাকা দিয়ে তাঁদের পাহারাদার বানিয়ে সড়কের সম্পূর্ণ জমিটি ভরাট করে ফেলা হয়। এসব কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করার এ দীর্ঘ সময়ে স্থানীয়দের সাথে ওই ভূমি দস্যূতের একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এ জমিকে কেন্দ্র করে ঘটে একাধিক পক্ষ-প্রতিপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে হামলা, জখম, মামলা ও আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনাও।
এতো ঘটনা ঘটলেও সড়ক বিভাগের কাঠের চশমা লাগানো সার্ভেয়ার শিপন তার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পর্যন্ত অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেন নাই যে, তাদের অধিগ্রহণকৃত জমির পুকুর অলরেডি ভরাট হওয়ার পথে। যদিও সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত এ জমি দেখে রাখার দায়িত্বেও ছিলো সওজ-এর এ সার্ভেয়ার শিপনের ওপরেই।
উল্লেখ করা যেতে পরে, গত জাতীয় সংসদ বির্বাচনের আগে বিশাল আওয়ামী লীগার হামজা শেখ গং রা খোসল পাল্টে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপি'র স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মনোমালিন্য হলে দূর্বৃত্তরা কিছুদিন ওই মার্কেট নির্মাণের প্রাথমিক কাজ বন্ধ রেখে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে মাটি ভরাটের সময় সর্বশেষ সংগঠিত রক্তক্ষয়ী মারামারিতে হামজার প্রধান লাঠিয়াল বাহিনীর অন্যতম তাম্বুলখানার জসিম ব্যাপারি'র সহযোগিতায় স্থানীয় রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের এক কৃষকদল নেতার সাথে পরিচয় হামজা শেখ গং-দের। অতঃপর তাঁকে ভুল বুঝিয়ে ও তাঁর নাম ভাঙিয়ে প্বার্শবর্তী স্থানীয় কানাইপুর ইউনিয়নের এক মেম্বারের প্রত্যক্ষ মদদে দূর্বৃত্তরা সড়কের জায়গায় দু’টি ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত মার্কেট নির্মাণের কাজ সেরে ফেলেন।
যদিও ওই কৃষকদল নেতা জানিয়েছেন, 'বিএনপি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিএনপি'র কাজ রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা, কাউকে দিয়ে তা দখল করা নয়।' এসময়, তাঁর নাম ভাঙিয়ে এ অবৈধ মার্কেট দু'টি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা বাধা দেননি জানালে এ কৃষকদল নেতা জানান, 'আমি রাজনীতি করি, আমার কাছে অনেক মানুষেরই পরিচয় হয়। আর ক্ষমতায় থাকলে তো একটু বেশিই হয়। তবে, আমার বা আমার দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ এমন কাজ করেন তবে, তার দায় শুধুই তার বা তাদেরই, আমাদের নয়'। এছাড়া, এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রশাসনের যে কোনো আইনি পদক্ষেপকেই তিনি ও তাঁর দল পূর্ণ সমর্থন করবেন বলেও জানান কৃষক দলের এ ত্যাগী নেতা।
এদিকে, নিজে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে রাষ্ট্র বিরোধী এমন কোনো কাজের সমর্থন দেননি এবং বেঁচে থাকতে দিবেনও না বলে নিজের অবস্থান উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের কাছে পরিস্কার করেছেন কানাইপুর ইউনিয়নের ওই অভিযুক্ত মেম্বারও। এমন পরিস্থিতি দূর্বৃত্তরা এ প্রতিবেদককে নানা লোক মারফত ক্ষতি করার হুমকি-ধামকি সহ দিচ্ছেন মামলা করার হুমকিও।
এর আগে, ওই মার্কেট দু'টি নির্মাণের শুরুতে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের নেতৃত্বে সওজ-এর একটি অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়া সড়কের জায়গা দখল করে তৈরি হতে থাকা একটি বিল্ডিং এর কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে যান এবং অনুরোধের সূরে নির্দেদশা দিয়ে যান- সড়ক বিভাগের জায়গা অবৈধ দখল করে মার্কেট বিল্ডিং এর কাজ না আর না করতে। করলে জোর করে সরকারি জায়গা দখলের ফৌজদারি মামলার করার হুমকি দেন সওজ-এর এ নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু উদ্দেশ্য যখন দখলদারি, কে শুনে কার কথা। এ ঘটনার পর কয়েকদিন নির্মাণ কাজ বদ্ধ রেখে, কয়েকদিনের মধ্যেই আবার কাজ শুরু করলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, পিপিএম-এর নজরে আনেন স্থানীয় কয়েজজন গণমাধ্যমকর্মী। তখন এসপি নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠালে, ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে দূর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার দেশের বাইরে গেলে, ফের কাজ শুরু করে দূর্বৃত্তরা। ঈদুল আযহার সরকারি ছুটির মধ্যে লাগাতার কাজ করে মার্কেট দু'টির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করে তারা। অবৈধভাবে নির্মাণকৃত ওই মার্কেট দু'টির দোকান বরাদ্দের কাজও এখন ইতিমধ্যে প্রায় শেষ করে ফেলেছেন দূর্বৃত্তরা।
এদিকে, এসব বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের ধীরে চলো নীতি, রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অদৃশ্য শিথিলতা ও একাধিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে কয়েকজন প্রতিবেদককে মিথ্যা মামলার হুমকি ইত্যাদি বিষয়গুলো স্থানীয়দের মনে ভীতি সঞ্চার এবং এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, 'রাষ্ট্র স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে'।
ফরিদপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রস্বার্থ রক্ষায় ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক যে কোনো আইনানুগ পদক্ষেপে পাশে থাকবেন বলে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে, এখন এগুলোর সবকিছু নির্ভর করছে সড়ক বিভাগের আনিত পদক্ষেপের ওপরই। এছাড়া, এ বিষযটিতে প্রশাসনের গাফিলতি ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন রাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও। তারা উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'রাষ্ট্র স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের কোনো কর্মচারী বাধা হয়ে দাঁড়ায় কিনা বিষয়টি আমরা নজরে রাখছেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছি ফরিদপুরের প্রশাসন এ ব্যাপারে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন'।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক উপ-বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথে কাজ করছে সড়ক বিভাগ। অতি শীঘ্রই সড়ক বিভাগের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আ.লীগ নেতাদের সাহায্যে জেলা পরিষদের জমি লিজ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সড়কের জমি দখলে নেওয়ার হীন উদ্দেশ্য সফল করতে গিয়ে করে এ সংগবদ্ধ চক্রটি জেলা পরিষদের অনুমতি না নিয়ে ভবন নির্মাণ করে লিজেরাই লিজের শর্তও ইতিমধ্যে ভঙ্গ করে ফেলেছেন।
এদিকে, লিজের ইজারা শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানালে- বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) বেগম সানজিদা সুলতানা।
এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্র বনাম হামজা গং নামের দূর্বৃত্তদের এ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে?
গত নির্বাচনে নিজ সেন্টারে (শোলা কুন্ড) ধানের শীষের প্রার্থীকে হারানোর পিছনে বিপুল অর্থ বিলিয়ে বিলানো হামজা শেখ গং। যারা কিনা আবার কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর নায়াব ইউসুফ হারার খুশিতে খেই হারিয়ে তারেক জিয়া ও চৌধুরী নায়াব ইউসুফের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে উদ্দাম নৃত্য করা হামজা শেখ; নাকি রাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সওজ এবং জেলা পরিষদ? সেটা দেখায় অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
(চলবে)...
(আরআর/এসপি/জুন ১৫, ২০২৬)
