মাদারীপুর প্রতিনিধি : অবৈধভাবে ইতালি যাবার পথে লিবিয়ায় যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায় দালালচক্র। নিরুপায় হয়ে পরিবার থেকে মাফিয়াদের কয়েক দফা ৮৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপরও মুক্তি মেলেনি মাদারীপুরের রফিকুল ইসলাম রাব্বির। গত এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের সাথে কোন যোগাযোগ নেই তার। এই ঘটনায় যুবকের সন্ধানে দালালের বাড়ি ঘেরাও করেছে পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দালালদের বিচার দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার মধ্য খাগদী এলাকার যুবক রফিকুল ইসলাম রাব্বি (২৪)। পরে তাকে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায় মাফিয়ারা। নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় পরিবারের কাছে। সেই ভিডিও দেখে দেড় বছর আগে বাবা জলিল বেপারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি মারা যান। এর ৬ মাস পর মা মেহেরুন নেছাও ছেলের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপরও থেমে নেই দালালচক্র। পরিবার থেকে কয়েক দফায় আদায় করে মুক্তিপনের ৮৫ লাখ টাকা। তারপরও রাব্বির মুক্তি মিলছে না। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ সে। তিনভাই একবোনের মধ্যে রাব্বি সবার ছোট। জমি বিক্রি ও চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা দিয়ে দিশেহারা যুবকের পরিবার। একদিকে পাওনাদারদের টাকা ফেরতের চাপ, অন্যদিকে যুবক নিখোঁজ থাকায় চরম দুঃচিন্তায় পড়েছে পরিবার।

পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকার আইয়ুব আলী মাতুব্বরের ছেলে রিয়াজুল মাতুব্বর ও রিয়াজুলের শ্বশুর মধ্য খাগদী এলাকার জামাল ফকির এবং শাশুড়ি রোমানা বেগমের সাথে চুক্তি করে রাব্বির পরিবার। পরে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে রাব্বিকে লিবিয়া আটকে নির্যাতন চালিয়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রাব্বি। তার সন্ধান পেতে পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে দালালের বাড়িতে গিয়ে ঘেরাও করেন।

নাম না প্রকাশে কয়েকজন জানায়, দালাল রিয়াজুল অনেক যুবককে ইতালি নিয়ে যাবার কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে এলাকায় ও শ্বশুরবাড়িতে ভবনও নির্মাণ করেছে। এই ঘটনায় তার বিচার হলে, দালাল আর প্রতারণা করার সাহস পাবেন না।

নিখোজ রাব্বির বোন তানজিলা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে জিম্মি করে দফায় দফায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় আমরা দালালচক্রের বিচার চাই, আর আমার ভাইকে দ্রুত ফেরতও চাই।

দালাল রিয়াজুল মাতুব্বরের শাশুরি রোমানা বেগম বলেন, রফিকুল ইসলাম রাব্বি কবে, কার মাধ্যমে কোথায় গিয়েছে আমি কিছুই জানিনা। টাকা লেনদেনের বিষয়টিও আমি অবগত নই। আর আমার মেয়ে জামাই রিয়াজুল মাতুব্বর ইতালি থাকেন। আমার স্বামী কালকিনি উপজেলায় কাজে গেছেন। তাই আমি এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারবো না।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, এ ব্যাপারে নিখোঁজ যুবকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এমন খবর পেয়ে পুলিশ বিভাগের সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যাছাইবাছাই চলছে।

(এএসএ/এসপি/জুন ১৬, ২০২৬)