স্পোর্টস ডেস্ক : দুইবার এগিয়ে গিয়েও প্রথমার্ধে স্বস্তি পায়নি ইংল্যান্ড। বিরতিতে ম্যাচ ছিল ২-২ সমতায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় চিত্র। জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। দলটির হয়ে হ্যারি কেইন করেছেন জোড়া গোল।

বেলিংহ্যাম ও বদলি নামা র‍্যাশফোর্ড একটি করে গোল করেন। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে গোল করেন মার্টিন বাতুরিনা ও পেতার মুসা।

ম্যাচের শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল ইংল্যান্ড। নিজেদের রক্ষণ থেকে খেলা গড়তে গিয়ে চাপের মুখে পড়ে তারা। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় ক্রোয়েশিয়া। তবে সেখান থেকে গোল আসেনি।

তবে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ১২ মিনিটে। তার আগে আসে নাটকীয় পেনাল্টি। কর্নারের আগে বল হারান লুকা মদরিচ। এরপর বক্সে ননি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। স্পটকিকে প্রথমবার কেইনের শট ঠেকিয়ে দেন দমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়ায় পেনাল্টি আবার নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি কেইন।

গোলের পর ইংল্যান্ডের খেলায় গতি বাড়ে। ডান প্রান্তে মাদুয়েকে বারবার জায়গা তৈরি করছিলেন। ৩১ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের পাস থেকে কেইন বল দেন মাদুয়েকের দিকে। তার নিচু ক্রস বিপজ্জনক হলেও শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ সামলে নেয়।

৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠে বল জিতে আক্রমণ গড়ে তারা। পেতার সুচিচ বক্সে ঢুকে বল দেন বাতুরিনাকে। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন এই মিডফিল্ডার। জর্ডান পিকফোর্ড হাত লাগালেও বল ঠেকাতে পারেননি।

সমতা ফেরার ছয় মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে নিচু হয়ে হেড করেন কেইন। বল যায় লিভাকোভিচের ফাঁকা রাখা কোণে। এই গোলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের গোলের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।

তবে প্রথমার্ধের শেষটা রাঙায় ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইভান পেরিশিচের হেড পেয়ে কাছ থেকে গোল করেন মুসা। প্রথমে অফসাইডের সন্দেহ থাকলেও রিপ্লেতে দেখা যায় এজরি কনসার পা তাকে অনসাইডে রেখেছিল। ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে বদলে যায় ইংল্যান্ডের খেলা। গতি, চাপ ও আক্রমণের ধার, সবকিছুতেই এগিয়ে যায় টমাস টুখেলের দল। যার ফল পায় শুরুতেই।

৪৭ মিনিটে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন বেলিংহ্যাম। সামনে এগিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল পাঠান দূরের পোস্টে। আবারও এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

গোলের পর আরও চাপ বাড়ায় ইংল্যান্ড। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বেলিংহ্যামের শট ঠেকান লিভাকোভিচ। কর্নার থেকে নিকো ও’রাইলির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫২ মিনিটে রাইসও দূরের কোণে শট নিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটিও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি।

৫৬ মিনিটে আবার বড় সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। ও’রাইলির শক্তিশালী হেড ঠেকান লিভাকোভিচ। ফিরতি বলে অ্যান্থনি গর্ডনের সামনে সুযোগ ছিল, কিন্তু ঠিকমতো হেড করতে পারেননি তিনি। পরে গোলমুখে জটলার মধ্যেও কোনোভাবে বল ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়া।

ইংল্যান্ডের চাপ সামলাতে ৫৮ মিনিটে মদ্রিচকে তুলে মাতেও কোভাচিচকে নামায় ক্রোয়েশিয়া। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের জন্য ম্যাচটি সহজ ছিল না। প্রথমার্ধেই পেনাল্টির ঘটনায় তার ভুল বড় প্রভাব ফেলেছিল।

এরপর কিছুটা সময় ম্যাচের গতি কমে আসে। ৭২ মিনিটে তিন পরিবর্তন আনে ইংল্যান্ড। গর্ডন, মাদুয়েকে ও রাইসের জায়গায় নামেন র‍্যাশফোর্ড, বুকায়ো সাকা ও মরগান রজার্স।

শেষ দিকে আবার সুযোগ পেতে শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। ৭৬ মিনিটে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেন মারিও পাশালিচ। পিকফোর্ড সেটি ঠেকিয়ে দেন। ৭৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণে কিছুটা ফাঁকও দেখা যাচ্ছিল, তবে ক্রোয়েশিয়া তা কাজে লাগাতে পারেনি।

৮০ মিনিটে বেলিংহ্যামকে তুলে ডি‌জেড স্পেন্সকে নামায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া নামায় নিকোলা ভ্লাসিচ ও আন্দ্রেই ক্রামারিচকে। তবে গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ডই।

৮৫ মিনিটে ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত করে দেন র‍্যাশফোর্ড। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড বক্সের ভেতর ভালো জায়গা বানিয়ে ঠান্ডা মাথায় শট নেন। বল জালে গেলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ৪-২ ব্যবধানে।

যোগ করা সময় ছিল পঞ্চম মিনিটে ক্রোয়েশিয়া ব্যবধান কমানোর বড় সুযোগ পেয়েছিল। কর্নারের পর বল পেয়ে যান ইয়োশকো ভারদিওল। কিন্তু গোললাইন বরাবর স্লাইড করে শরীর দিয়ে ব্লক করেন কেইন।

শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি। ছয় গোলের রোমাঞ্চে জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ইংল্যান্ড।

(ওএস/এএস/জুন ১৮, ২০২৬)