সরকারি ইঙ্গিতে পলাশবাড়ীতে সুউচ্চ রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ, রামে এত ভয়!
শিতাংশু গুহ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহত্তর রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ হয়েছে। কে বন্ধ করলো? কেন বন্ধ করলো কেজানে? সরকার বন্ধ করেছে? নোটিশ কই? ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন? হয়তো তাই। আইনত: সরকার কি বন্ধ করতে পারে? পারেনা। সোস্যাল মিডিয়া বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ করেছেন। জানা যায়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পলাশবাড়ী উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছেন (১০ জুন ২০২৬)। তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, নিজেদের উদ্যোগে মূর্তি ভেঙ্গে ফেলতে। না ভাঙ্গলে মামলা-হামলার কথাও বলে দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন হিন্দু’র পক্ষে কি মূর্তি ভাঙ্গা সম্ভব?
নির্দেশটি অফিসিয়াল নয়, অথচ কাজটি হলো? কি চমৎকার তাইনা? এরফলে মূর্তি নির্মাণের কাজ কি থেমে যাবে? যাবে মানে, ইতোমধ্যে থেমে গেছে। সরকার বাহাদুরের মৌখিক নির্দেশের পরও কাজ চালায় এমন সাহস বাংলাদেশের হিন্দুর নেই, থাকার কোন কারণ নেই? কাজ বন্ধ না হলে হয়তো গুম-খুন হয়ে যাবে। আফটারঅল হিন্দুর ঘাড়েও তো একটাই মাত্র মাথা। এ ব্যবস্থার সুবিধা হচ্ছে, মূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ নিয়ে হৈচৈ হলে সরকার বলতে পারবেন, ‘আমরা তো বন্ধ করিনি’। সরকারি মৌখিক নির্দেশটি বেআইনী। সরকার নিজেই যখন আইন ভঙ্গ করেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে আইন মানার বাধ্যবাধকতা থাকেনা।
তৌহিদী জনতা তো বলে মাটির মূর্তির ভেতর কিচ্ছু নেই, তাহলে মাটি-পাথর দিয়ে তৈরী রামের মূর্তি নির্মাণে বাঁধা কেন? রাম নামে এত ভয় কেন? মমতা ব্যানার্জী ‘জয় শ্রীরাম’-এ ভীত ছিলেন, তিনি আউট। রাম মূর্তির পক্ষে-বিপক্ষে দেশে কর্মসূচী চলছে। ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের সময় তো হিন্দুরা বিক্ষোভ করেনি, মুসলমানরা এখন একটি রামমূর্তি নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছেন কেন? সংখ্যার দাপটে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মন্দির নির্মাণ বন্ধ করে দিলেন? ইমাম ওলামা পরিষদ সাংবাদিক সম্মেলন করেরামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। উদ্যোক্তা হরিদাস সম্পর্কে নানা কুৎসা রটনা হচ্ছে। ২০২২ সালে তিনি প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হ’ন, ১৩/১৪ দিন হাজতবাস করেন, এরপর কিছু না পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তার নাম তৌহিদ ইসলাম কিনা এনিয়েও বিভ্রাট আছে, শেখ ফরিদ-র ইউ-টিউব চ্যানেলে এসে হরিদাস চন্দ্র তরনি দাস জানান, ওসব ভুয়া, তিনি কখনো ধর্মান্তরিত হ’ননি। তিনি জানান, একসময় তিনি খৃষ্টান বলেও প্রচারণা চালান হয়েছিলো। হরিদাস জানান, তার এলাকায় মুসলমানদের কোন সমস্যা নেই, যত সমস্যা বাইরের লোকের। মন্দিরে প্রচুর মানুষ আসে, তারা উদার হস্তে দান করেন। তিনি বলেন মন্দির সংলগ্ন প্রায় ১৫০টি দোকানের বেশিরভাগই মুসলমানের। তিনি গুরুকুল চালু করেছেন, একটি বৃদ্ধাশ্রম করেছেন এবং একটি ছোটখাট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন। শেখ ফরিদকে তিনি অনেক কথাই বলেছেন, আসলে দরিদ্র ঘর থেকে তার এই উঠে আসাটা অনেকে মেনেন নিতে পারছেন না?
একই ঘটনার ওপর নবনীতা চৌধুরীর একটি ভিডিও দেখলাম। তিনি সাংবাদিক ছিলেন, টিভিতে উপস্থাপনা করতেন, গান ভাল গান, তাঁর ভিডিও চ্যানেলের গ্রাহক যথেষ্ট, বলেন ভাল।রামমূর্তি নির্মাণের ঘটনায় তাঁকে ‘অখুশি’ মনে হলো? ইনিয়ে-বিনিয়ে তিনি টাকার উৎস খুঁজে বের করা, সেভেন-সিষ্টার, লালমনিরহাট বিমানবন্দর, নিরাপত্তা ঝুঁকি সব দিকেই নজর রেখেছেন, শুধু এটি যে হিন্দুদের ধর্ম পালনে বাঁধা তা বলতে ভুলে গেছেন। এ ভিডিও শুনতে শুনতে আমার স্বামী বিবেকানন্দের একটি উক্তি মনে পরে যায়, তিনি বলেছিলেন, হিন্দুধর্ম ছেড়ে একজন অন্যধর্মে গেলে যে শুধু একজন হিন্দু কমে তা নয়, হিন্দুর একজন শত্রু বাড়ে’।
বলা হয়েছিলো মন্দিরটি অবৈধ রেলের জমির ওপর, এটি সত্য নয়, এটি দেবোত্তর সম্পত্তি। সরকারের লোকজন একদিন বসে থেকে দেখে গেছেন কত টাকা ওঠে। ৫২ ফুট কৃষ্ণের মুর্ক্তি সেখানে আছে, আছে শিবের মূর্তি, কারো কোন সমস্যা হয়নি। যত সমস্যা রামকে নিয়ে?রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ৮০% হয়ে গেছে, এখন সেটি বন্ধ। হরিদাস বলেছেন, আমার দেবতারমূর্তি আমি ভাঙ্গতে পারবো না, আইন থাকলে সরকার এসে সেটি ভাঙ্গতে হবে। তিনি অবশ্য সরকারের কাছে দাবি করেছেন, নির্মাণ কাজ স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত জুজুর ভয় দেখিয়ে তৌহিদী জনতা হিন্দুদের একটি রামমূর্তিও তৈরী করতে দেবে না? রাম তো বাংলার মাটিতে মিশে আছে, এখনো বহু জায়গার নাম রাম দিয়ে? ছোটবেলায় ভূতের ভয়ে আমরা রামনাম নিতাম, রামকে তো ভয় পাওয়ার কথা ভূতের, মানুষ কেন ভয় পাচ্ছে?
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
