আশাশুনিতে ঘূর্ণিঝড়কালীন সমন্বিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক মহড়া
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কালীন সমন্বিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এক বিশেষ আগাম প্রস্তুতি ও মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে প্রতাপনগর ইউনাইটেড একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ার উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডুর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী মোঃ হারুনার রশীদ, আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার এবং আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনার রশীদ মৃধা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী, আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস, উত্তরণ-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ মনিরুজ্জামান জমাদ্দার, এসিএফ-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালেদা হাসান মুন প্রমুখ।
মহড়ায় ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, সতর্কবার্তা প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। এ উপলক্ষে সুন্দরবন নাট্যগোষ্ঠী একটি সময়োপযোগী নাটক পরিবেশন করে, যেখানে উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সুরক্ষা ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শত শত উপকূলীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত থেকে এ নাটক ও মহড়া উপভোগ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। তাই উপকূলের জনগণকে আগাম প্রস্তুত করা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের সমন্বিত মহড়া দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা উপকূলীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সহযোগী সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
(আরকে/এসপি/জুন ১৮, ২০২৬)
