রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : গাইবান্ধা জেলা পলাশবাড়ি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের মূর্তি নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া ও শ্রীরাম চন্দ্রকে অবমাননা এবং শ্রীরাম চন্দ্রের মুর্তি ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শহীদ নাজমুল শরনীতে এ কর্মসুচি পালিত হয়।

মানববন্ধন কর্মসুচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, সহসভাপতি স্বপন কুমার শীল, সহসভাপতি গৌর চন্দ্র দত্ত, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাধু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য সুধাংশু সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অসীম দাস সোনা, জেলা মন্দির সমিতির সহসভাপতি অ্যাড. তারক চন্দ্র মিত্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলাই চন্দ্র দে, ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায়ক সুজন বিশ্বাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ি বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতার দেশ। এখানে বসবাসকারি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু ২০০১ সালে নির্বাচিত চান দলীয় জোট সরকারসহ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী অন্তবর্তীকালিন ইউনুস সরকার ও বর্তমানে বিএনপি সরকারের সময়ে হিন্দু মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর ও লুটপাট, হিন্দুদের জমি দখল, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ধর্মান্তরকরণ চলমান।

এসব প্রতিরোধে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় একটি উগ্রবাদি গোষ্ঠী অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় হামলাকারিরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। যে কারণে গাইবান্ধা হেলার পলাশবাড়ি উপজেলার রামচন্দ্রপুরের দেবত্ব সম্পত্তিতে হরিদাস ওরফে তারানী নিজ উদ্যোগে সকলের সহযোগিতায় একটি আকর্ষনীয় রাম মুর্তি বানানোর কাজ শুরু করলে একটি উগ্র মৌলবাদি গোষ্ঠী তা মেনে নিতে পারছিলো না। তারা বিষয়টি ভারতের কারসাজি ও রংপুর বিভাগকে ভারতভুক্তির অংশ হিসেবে এ রামমুর্তি বাননো হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেয় উগ্র মৌলবাদিরা। তারা ভগবান রামচন্দ্রের ছবি ব্যানরে এঁকে মিছিল চলাকালে তাতে জুতোপেটা করে উল্লাস করেছে।

এমনকি রামের মুর্তি ভেঙে ফেলার জন্য দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিলের একপর্যায়ে বাকী থাকা ১৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। হরিদাসকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি মূর্তি নির্মাণ কাজ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন। বর্তমানে হরিদাস নিরাপত্তাহীনতা রয়েছেন। এ ঘটনায় বর্তমান সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তারা। অবিলম্বে বন্ধ থাকা ওই নির্মান কাজ চালু করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান বক্তারা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন।

(আরকে/এএস/জুন ২০, ২০২৬)