সালথায় মারামারির ঘটনায় মুফতি শফিকুল ইসলাম জড়িত নয় দাবি এলাকাবাসীর
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারি ও পরবর্তী হামলার ঘটনায় মুফতি শফিকুল ইসলামকে জড়ানোতে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাহিরদিয়া মাদ্রাসা মাঠে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলতে গেলে স্থানীয় আবু বক্কর মোল্লার ছেলে ছিয়ামের সঙ্গে মুফতী শফিকুল ইসলামের ছেলে মুসাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এক দোকানদারের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ পর মাগরিবের নামাজের আগে মাদ্রাসার টিউবওয়েলে অজু করতে যাওয়ার সময় ছিয়ামসহ ৮ থেকে ১০ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে মুসা ও অপর দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। মুসার মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে মুসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছিয়ামের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে ছিয়াম মাগরিবের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ফুটবল মাঠে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছিল। পরে বাড়িতে ফিরে দেখেন মুফতী শফিকুল ইসলামের লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের টিন ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।
আবু বক্কর মোল্লা মোবাইল ফোনে বলেন, “ খেলার মাঠে কী হয়েছে, তা আমি জানি না। আমার বাড়িতে হামলার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে ফিরে শুনি, মুফতী শফিকুল ইসলামের লোকজন হামলা করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমি তাকে ফোন করলে তিনি স্থানীয় সিরাজ মোল্লাকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসেন। এ বিষয়টি সত্য।”
এ বিষয়ে মুফতী শফিকুল ইসলাম বলেন, আবু বক্কর মোল্লা ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের টিন মেরামতের ব্যয় বহনের আশ্বাসও দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার পরও তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যক্তি সিরাজ মোল্লা জানান, মারামারির ঘটনায় মুফতী শফিকুল ইসলাম সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আগামী রবিবার বিকেল ৩টায় স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”
ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়রা শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
(এএনএইচ/এএস/জুন ২০, ২০২৬)
