বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : বর্ষা এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আকাশ জুড়ে কালো মেঘের আনাগোনা, টিপটিপ কিংবা ঝুম বৃষ্টির সুর, আর চারদিকে সবুজের অপার সমারোহ।

জেলার চার উপজেলা মাগুরা, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুরের বিভিন্ন গাছে গাছে, মনোরম পরিবেশকে আরও মোহনীয় করে তোলে কদম ফুল।

গোলাকার সোনালি-সাদা পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো কদম যেন বর্ষার হাসিমুখ। তাই কদম ফুলকে বর্ষার প্রতীক এবং বাংলার প্রকৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলংকার বলা হয়।

বাংলা বর্ষপঞ্জির আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে, অর্থাৎ বর্ষা ঋতুতেই কদম ফুল সবচেয়ে বেশি ফোটে।

টানা বৃষ্টি, আর্দ্র আবহাওয়া এবং উষ্ণ জলবায়ু কদম গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির ফোঁটায় ভেজা কদম ফুলের সৌন্দর্য যেন কবিতা,গান ও সাহিত্যের চিরন্তন অনুপ্রেরণা। কদম ফুলের গঠনও বেশ ব্যতিক্রমী। অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুল একত্রে মিলিত হয়ে একটি গোলাকার পুষ্পমঞ্জরি তৈরি করে।

দূর থেকে এটি একটি হলুদাভ গোলকের মতো দেখায়। এর মৃদু সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে দেয় নির্মল প্রশান্তি, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়।

শুধু সৌন্দর্যেই নয়, কদম গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা। এটি দ্রুত বর্ধনশীল ছায়াদানকারী বৃক্ষ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেন উৎপাদন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফুল মৌমাছি ও নানা উপকারী পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে, যা পরাগায়নে সহায়তা করে।

কাঠও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয়।

বাংলা সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও সংগীতে কদম ফুলের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রেম, বর্ষা, মায়া এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে কদম যুগ যুগ ধরে কবি-সাহিত্যিকদের কল্পনায় স্থান করে নিয়েছে।

বর্ষার দিনে কদম ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে পৃথিবীকে ভালোবাসার রঙে সাজিয়ে দিয়েছে।

প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সৌন্দর্য কেবল চোখে নয়, অনুভবেও বাস করে। তাই কদম ফুল শুধু একটি ফুল নয়; এটি বর্ষার প্রাণ, বাংলার ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

(বিএসআর/এএস/জুন ২০, ২০২৬)