কালিগঞ্জে বিএনপি অফিসের সামনে থেকে ককটেল উদ্ধার
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক বিষয়টি কারো নজরে না আসা ও শনিবার সকালে ওই পার্টি অফিসের সামনে থেকে দুটি তাজা ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় সাধারন মানুষের মধ্যে মুখরোচক গল্প শুরু হয়েছে। তবে শনিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেমায়েত আলী বাবু বলেন, শনিবার সকাল সাতটার দিকে দলীয় নেতাকর্মীরা অফিসে এসে আগুন দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পায়। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল পড়ে থাকতে দেখে তারা। এরপর বিষয়টি তাৎক্ষনিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তারা ককটেল দুটি উদ্ধার করে।
তিনি আরো বলেন, ধারনা করা হচ্ছে রাতের কোন এক সময় দূর্বিত্তরা দুদলী বিএনপি অফিসে আগুন দিয়েছে।এতে অফিসের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ছনকা গ্রামের এক বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, এক সময় আওয়ামী লীগ সরকারের গায়বী মামলায় বিএনপির অনেকেই আত্মগোপনে ছিলো। অনেকের মিথ্যা মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। আজ পরিস্থিতি বদল হয়েছে। কৃষ্ণনগর বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ও দুদলী বিএনপি অফিসে আগুন আওয়ামী লীগের নিয়মেই চলছে। এতেও হয়তো বেছে বেছে প্রতিপক্ষদের নামে মামলা করা হবে।
তবে পার্টি অফিসে আগুন লাগানো ও ভাংচুর করা হলো। ফেলে রাখা হলো ককটেল। এটা রাতে কেউ জানতে পারলো না। বিষয়টি পরিকল্পিত নয় কি বলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সাধারণ মানুষ।
মথুরেশপুর এলাকার কয়েকজন আওয়ামীলীগ সমর্থক জানান, ১২ জুন রাতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে ককটেল ফাটানো হলো। ১০ জুন উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে কালিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল হলো। মিছিল থেকে রোকনুজ্জামান বললেন,এক একটি আওয়ামী লীগ ধর,ধরে ধরে জেলে ভর। তিন দিনের মধ্যে আওয়ামী সন্ত্রসীদের গ্রেফতার করা না হলে থানার সামনে অবস্থান করবেন তারা। এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল হোসেনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তারা। মিছিলের দুই দিন পর নিরবে ককটেল হামলা মিছিলের বক্তব্যকে সমর্থন করে হয়েছে। বাদি রেজাউল খাঁ তাৎক্ষনিক কাউকে চিনতে না পারলেও পরবর্তীতে ২০ গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীসহ ৮৩ জনকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে কিভাবে মামলা করলেন তা উৎসুক জনতার মাঝে উঁকিঝুঁকি মারছে।
কালিগজ্ঞ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সকালে পরিত্যাক্ত অবস্থায় দুটি অবিস্ফোড়িত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
(আরকে/এএস/জুন ২০, ২০২৬)
