সোনাতলায় কৃষকের হাত-পা বেঁধে লুটপাটের অভিযোগ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের খাটিয়ামারী গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে গভীর রাতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার খাটিয়ামারী গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল লতিফ মন্ডল (৫৪) গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ১০/১২ জনের একটি দল বসতঘরের পশ্চিম পাশের সিধ কেটে ঘরে ঢোকে। পরে তারা আব্দুল লতিফ ও তার স্ত্রী মোছাঃ বুলবুলি বেগমের হাত-পা বেঁধে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতদল ঘরে থাকা ধান ও ভুট্টা বিক্রির নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
লিখিত অভিযোগে আব্দুল লতিফ মন্ডল দাবি করেন, ডাকাতদলের মধ্যে পাকুল্লার মির্জাপুর ওয়াপদা বাঁধ এলাকার দুই ব্যক্তিকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন ইলিয়াস আলী ও আফসার আলী। এছাড়া ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশে খবর দিলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর চালুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজেদুর রহমান লেভিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারা বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান বকুল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম সরকার, আজাদ ও জাহাঙ্গীর মন্ডল বলেন, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইলিয়াস আলী বলেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই তার নাম জড়ানো হয়েছে।
অপর অভিযুক্ত আফসার আলী বলেন, স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(বিএস/এসপি/জুন ২১, ২০২৬)
