দৈনিক বাংলা ৭১-এ সংবাদ প্রকাশ
ফরিদপুরে সড়ক বিভাগের দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করলো প্রশাসন
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুল তলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জন্য জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণকৃত দুর্বৃত্তের দখল করা সেই জমি উদ্ধার করেছে ফরিদপুরের উপজেলা প্রধাসন ও সড়ক বিভাগ। অভিযানে সওজের প্রায় ৩১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়, যার আর্থিক মূল্য ৬-৭ কোটি টাকা।
আজ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া-এর নির্দেশনায় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর সহযোগিতায়, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড মো. শফিকুল ইসলমের পরিচালনায়- একটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে সরকরি জায়গায় গড়ে উঠা মার্কেট দু'টিকে মাটির সাথে গুড়িয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা হয়।
এর আগে, 'ফরিদপুরে সড়কের জায়গা দখল' শিরোনামে এ বিষয়ে 'দৈনিক বাংলা ৭১' ও 'উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ' এ একাধিক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের।
এ অভিযানের সময় পাওয়া ইট, বালু জনসাধারণের সাথে প্রকাশ্য নিলাম করে প্রাপ্ত নগদ টাকা সংশ্লিষ্ট ট্রেজারী কোডে জমা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নীচু পুকুর বিশিষ্ট ওই জমি গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে দূর্বৃত্তরা জায়গাটি দখল করে মাটি দিয়ে ভরাট করে। এরপর দখলকৃত সরকারি ওই জায়গায় মার্কেট নির্মানের করতে গেলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের নেতৃত্বে সড়ক বিভাগের একটি টিম এসে তা ভেঙ্গে দেয়। পরে স্থানীয় কিছু নেতার নাম ভাঙিয়ে সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী দেশের বাইরে গেলে গত ঈদুল আযহার ছুটির মধ্যে সরকারি জায়গায় ভবন দুইটি করার কাজ শেষ করে ফেলেন দূর্বৃত্ত চক্রটি।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল ফরিদপুরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম উচ্ছেদ অভিযানে পর উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'ফরিদপুর সদর উপজেলার সড়ক ও জনপথের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ৩১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকায় গঙ্গাবর্দী মৌজার এস এ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগের সওজের অধিগ্রহণ করে রেকর্ডেড জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এসিল্যান্ড বলেন, ৪২ গংগাবর্দী মৌজার এস এ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগের জমিতে জনৈক হামজা, পিতা মৃত আ. সালাম শেখ, গ্রাম: শোলাকুন্ড এন্ড গং কর্তৃক মাটি ভরাট করে সেমিপাকা দোকান তৈরী করায় তাকে একাধিকবার সওজ ও উপজেলা প্রশাসন হতে নিষেধ করা হয়। পরবর্তীতে আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে, অভিযানের সময় পাওয়া ইট, বালু প্রকাশ্য নিলাম করে টাকা সংশ্লিষ্ট ট্রেজারী কোডে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযানে সওজের প্রায় ৩১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়, যার আর্থিক মূল্য ৬-৭ কোটি টাকা'।
এছাড়া, এসময় নাফিজ তানজিম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সওজ, সড়ক উপ-বিভাগ -১, ফরিদপুর উপস্থিত থেকে তার সার্ভেয়ার দিয়ে সওজের জমির সীমানা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন বলেও জানান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম।
অভিযানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল, আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যগণ, স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, প্রায় অর্ধযুগের বেশি সময় আগে- মো. হামজা শেখ (৩২), উজ্জল শেখ (৪২), জসিম ব্যাপারি (২৯) (যিনি আবার স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত), লিটন সাহা (৪৭) -(যিতি চিহৃত ভূমি দস্যূ), মো. আলেপ শেখ (৫২) এবং আরও কিছু দুর্বৃত্ত মিলে এ পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সরকারি খাস জমি দখলের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করেছেন। এ চক্রটি সরকারি জায়গায় পাশাপাশি জনগণের জায়গাও দখল করে বসে আছেন। মৃগী গ্রামের বটতলায় ইতিমধ্যে এমন এক ভুক্তভোগীকে আলাদত কর্তৃক জমি বুঝিয়ে দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে যাওয়ার পরও তা ভেঙে পুনরায় দখল করে বিল্ডিং তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপরোক্ত, অভিযানে এলাকাবাসী খুশি হলেও এ চক্রকে থামাতে উপরে উল্লেখিত দূবৃত্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সাথে তাদের প্রত্যেকের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
(আরআর/এসপি/জুন ২১, ২০২৬)
