রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়া মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সোমবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে প্রকাশিত দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশ ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আসিয়ান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন ও নীতিগত অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
তারেক রহমান আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এ আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষাকে গঠনমূলকভাবে সমর্থন করার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এ অঞ্চলে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের (আরসিইপি) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কৌশলগত ভূমিকা স্বীকার করে বাংলাদেশের এ সংস্থায় যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। উভয় নেতা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার এ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং চুক্তিতে যোগদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তারা এ অঞ্চলে টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানান।
নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা, মানবপাচার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধের মতো প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও সামগ্রিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উভয় নেতা জাতিসংঘ ও ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের গুরুত্বও স্বীকার করেন। তারা বিশ্বব্যবস্থা, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়কে শক্তিশালী করার উদ্যোগগুলোকে যৌথভাবে সমর্থনের অঙ্গীকার করেন।
তারেক রহমান এ সফরকালে তাকে ও তার প্রতিনিধিদলকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিম ও মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি গভীর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যান। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। আগামী ২৬ জুন চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।
(ওএস/এএস/জুন ২২, ২০২৬)
