রায়ের বাজারে রাজুকের অভিযানে ১২টি ভবনের ভাঙা অংশ ফের নির্মাণ
মোহাম্মদ সজীব, ঢাকা : গত ১৭ মে রবিবার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা রাজধানীর রায়েরবাজার বারুইখালীতে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানে ১২টি ভবনের বেশকিছু অংশ পিলার, বারান্দার একাধিক অংশ ভেঙে দেওয়াসহ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে জব্দ করা হয় ৯টি ভবনের মিটার।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসানের নেতৃত্বে ভবনের বাড়তি অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়েছিল, সাথে ৯ টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়েছিল। এই এলাকাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কোথাও জানান তিনি। তবে অভিযানের কয়েকদিন না যেতেই সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর মালিকরা আবারও ভাঙা অংশ পুননির্মাণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন। এ ঘটনায় রাজউক কর্মকর্তার ইমারত পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভবনগুলো ভাঙ্গার কারণ কি ছিল? এবং পুনরায় আবার কিভাবে নির্মাণ হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ভবন মালিক আবুল বাশার উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে বলেন, আমরা একাধিক বার রাজুকের অফিসে গিয়েছি তারা আমাদের শুধু ঘুরাচ্ছে, অনুমোদন প্লান পাশ কোনো কিছুই দিচ্ছে না। অন্যান্য আরও কত ভবন আছে সেইগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালায় না। তিনি আরও বলেন, রাজুকের ইমারত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম প্রায়ই তাদেরকে ব্যাক্তিগত ভাবে দেখা করতে বলেন, বিভিন্ন কারন দেখিয়ে টাকা দাবি করেন, টাকা না দেওয়ার ফলে এই অভিযান হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার। ঈদ আসলেই ভবন মালিকদেরকে দেখা করতে বলেন রাজুক কমকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিলেই সব ঠিক হয়ে যায়, না দিলেই তারা টার্গেট করে ভবন গুলোতে অভিযান চালায়।
নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত অংশ অপসারণে রাজউক অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারেনি। অভিযানের পরপরই ভবন মালিকরা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙা অংশ আগের মতো তৈরি করে ফেলেন। এতে রাজউকের অভিযানের কার্যকারিতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রাজউকের অসাধু কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ভবন মালিকদের সমঝোতার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক নজরদারি শিথিল করে পুনর্নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও কয়েকদিন পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। তাহলে এসব অভিযান করে কী লাভ? যদি নিয়ম ভঙ্গকারীরা বারবার একই কাজ করতে পারে, তাহলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভাঙলেই হবে না, পরবর্তী সময়ে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জরিমানা বা সাময়িক ক্ষতি মেনে নিয়ে পুনরায় একই অনিয়ম করতে উৎসাহিত হবে।
এ বিষয়ে জানতে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
(এস/এসপি/জুন ২২, ২০২৬)
