বিশুদ্ধ পানির খোঁজে: পর্ব- ১
ফরিদপুর অঞ্চলে ২ জেলায় বিএসটিআই অনুমোদিত খাবার পানি প্রতিষ্ঠান মাত্র ৪টি
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর বিএসটিআই-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওয়াভুক্ত কমবেশি ১৫০ থেকে ২০০টি খাবার পানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৪টিতে রয়েছে বিএসটিআই -এর অনুমোদন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০টি পানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এছাড়া, ফরিদপুরে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান দেন ভ্যাট, টিআইএন থাকলেও নিয়মিত ট্যাক্স দেননা অনেক প্রতিষ্ঠান।
তাদের অনুমতি নিতে হয় এমন যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন মাস সময় দিলেও বছরের পর বছর ধরে বিএসটিআই সহ সরকারি কাগজপত্র না করেই চলছে পানির প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলায় বিএসটিআই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪টি পানি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে:
১. আবরান ড্রিংকিং ওয়াটার, গুহলক্ষীপুর, সদর, ফরিদপুর ২.উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, কাউলিকান্দা, সালথা, ফরিদপুর ৩.গোল্ডেন প্লাস ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড, ভব্দিয়া, সদর, রাজবাড়ী এবং ৪.এন এন ট্রেড ফার্ম, গোয়ালন্দ বাজার, রাজবাড়ী।
তবে, ২০১৭ সালে জেলা কার্যলয় হিসেবে কার্যক্রম চালু করা ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়টি ২০২১ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে এ অঞ্চলে সেসব খাবার পানির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি তৎকালীন বিএসটিআই আঞ্চলিক অফিস (৬২, পুরাতন যশোর রোড, খালিপুর) খুলনা থেকে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নিয়েছিলেন বটে। যার সংখ্যা খুবই নগন্য এবং তিন বছর পরপর নবায়ন করার কথা থাকলেও তাদের বেশির ভাগই তা করেন নাই।
এছাড়া, ফরিদপুর জেলায় যে ৪টি পানি কোম্পানি নিয়েছেন ভ্যাটের লাইসেন্স, তাদের আবার নেই বিএসটিআই লাইসেন্স।
জেলায় ভ্যাট দেওয়া ৪টি পানি প্রতিষ্ঠান হলো- ১. ফরিদপুর ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার ২.মাহিন ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার ৩.লাইফ ফুড এন্ড বেভারেজ এবং ৪. নহর পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার।
এছাড়া অন্য কোনো পানি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর বিভাগীয় রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সেবা নিতে না আসলে বা সেটি সম্পর্কে তথ্য না পেলে, আমাদের এসব বিষয়ে কাজ করতে কিছুটা অসুবিধা হয়। তবে আমরা পানি প্রতিষ্ঠান নিয়ে শীঘ্রই আরো ডাটা সংগ্রহের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারের কর ও শুল্ক আদায়ে অভিযান অব্যাহত রাখবো'।
ফরিদপুর অঞ্চলিক বিএসটিআইয়ের আওতাধীন বিএসটিআই অনুমোদন বিহীন খাবার পানি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করার কথা জানিয়ে শীঘ্রই এ বিষয়ে তাঁদের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ফরিদপুর বিএসটিআইয়ের অফিস প্রধান ও উপপরিচালক মো. কামাল হোসেনও।
এদিকে, বেশির ভাগ পানি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে কয়েকটি সদন ও আবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে, সেই সংখ্যাও অতি নগন্য। আবেদনের তথ্য না দিলেও ফরিদপুর সিভিল সার্জনের অফিসের নথিপত্র ঘেটে জেলার মাত্র ১১টি পানি প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়েছে ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস। যা হচ্ছে: ১. নহর ড্রিংকিং ওয়াটার ২. হাসান প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার ৩.আর্থ ড্রিংকিং ওয়াটার ৪. ওয়াটার প্লাস সেইভ ড্রিংকিং ওয়াটার ৫.স্বাদ ড্রিংকিং ওয়াটার ৬.ক্রিস্টাল ড্রিংকিং ওয়াটার ৭. হায়াত ড্রিংকিং ওয়াটার ৮. রিপন ড্রিংকিং ওয়াটার ৯. শেফা ড্রিংকিং ওয়াটার ১০. কিং ড্রিংকিং ওয়াটার এবং ১১. ব্রেইন ড্রিংকিং ওয়াটার।
এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, এ জাতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালু করতে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়: ১. ট্রেড লাইসেন্স: সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। ১. ক. জয়েন্ট স্টক কোম্পানি: কোম্পানি লিমিটেড হলে নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পরিদপ্তর (RJSC)-এর অধীনে নিবন্ধন নিতে হবে।) ২. বিএসটিআই (BSTI): খাবার পানির জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর বাধ্যতামূলক মান সনদ বা সিএম লাইসেন্স (CM License) নিতে হবে। ৩. পরিবেশ ছাড়পত্র: পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কারখানার জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate) গ্রহণ করতে হবে। ৪.ট্যাক্স ও ভ্যাট: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এ নিবন্ধন করে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) এবং ভ্যাট নিবন্ধন সনদ নিতে হবে। ৫.ফায়ার সার্ভিস: কারখানার নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে অনাপত্তি (এনওসি) সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এবং ৬. ট্রেডমার্ক: নিজের ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সুরক্ষিত রাখতে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT)-এ ট্রেডমার্ক জন্য করতে হবে।
এছাড়া, খাবার পানি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ট্রেড লাইসেন্স বা কারখানা স্থাপনের অনাপত্তি সনদ (NOC) এবং উৎপাদিত পানির জীবাণুমুক্তকরণ ও গুণগত মান পরীক্ষার মেডিকেল সনদ গ্রহণ করতে হয়। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে যেসব কাগজপত্র নিতে হয় তা হচ্ছে: ১. পানযোগ্যতার সনদ: কারখানার পানি মানসম্মত, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এই মর্মে স্বাস্থ্য সনদ বা টেস্ট রিপোর্ট নিতে হয়। ২.কারখানা পরিবেশ ও হাইজিন ছাড়পত্র: পানির উৎপাদন প্ল্যান্ট বা জারের কারখানা পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখার বিষয়ে সিভিল সার্জনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ৩. শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সনদ: কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সংক্রামকমুক্ত থাকার মেডিকেল বা স্বাস্থ্য সনদ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকেই প্রদান করা হয়। পানি বাজারজাত করার জন্য সিভিল সার্জনের অনুমোদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে বাধ্যতামূলকভাবে 'সিএম লাইসেন্স' (CM License) গ্রহণ করতে হয়।
উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এ অনুসন্ধানে, ফরিদপুর অঞ্চলে বেশকিছু খাবার পানি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘুরে, সরকারি নিয়ম অনুয়ারী প্রয়োজনীয় সকল সনদ বা কাগজপত্র করা আছে- এমন কোনো খাবার পানি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি প্রোসেসে তথ্য কালেকশন করেও একটা পানি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি- যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সকল নিয়ম-কানুন মেনে খাবার পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক তথ্য হচ্ছে, রাজবাড়ীসহ আশেপাশের জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সনদ পেতে মোটামুটি গুণগত মান ঠিক রেখে নিয়ম মানতে হলেও ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসে এসব কাগজপত্র বা সনদ সংগ্রহ করতে অতোটা বেগ পেতে হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ- ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসে এসব দায়িত্বে এমন একজন 'জামাই' (ব্যবসায়ীদের দেওয়া সাংকেতিক নাম) কর্মকর্তা রয়েছেন, যার নিকট গিয়ে 'মুরিদ' হলেই কেবলমাত্র বিশুদ্ধ খাবার পানির প্রতিষ্ঠান নয়, বরং যে কোনো খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই সহজে পেতে পারেন তাদের প্রয়োজনীয় সনদ বা অনুমোদন। নিয়ম ঠিকই মানা হয়, অনিয়মের বেড়াজালে। মনে রাখা জরুরি, প্রায় টানা ১৮ বয়চরেরও বেশি সময় ধরে ফরিদপুরে চাকরি করা এ পীরের পরিপূর্ণ মুরিদগণ তাঁকে জামাই আদরে রাখতে- মাসিক, ত্রি-মাসিক, ছয় মাসিক বা বাৎসরিক হিসাবে মাশোয়ারা দিয়ে থাকেন বলে অনেকের অভিযেগ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে ৩ বছরের বেশি কোনো সরকারি কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট থাকার কথা না থাকলেও ফরিদপুরে এ 'পীর' গত একটানা ১৮-১৯ বছর যাবত ফরিদপুরে আছেন (৫ আগস্টের পরে কয়েক মাস ব্যতীত)। তাকে চিনেন না সিভিল সার্জন অফিসের সাথে সম্পর্ক আছে এমন কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ফরিদপুরে নেই। এ পীর একই সাথে জেলা স্যানেটারি ইনস্পেক্টর ও জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকতাও বটে।
উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এ অনুসন্ধানে পানির কোম্পানিগুলোর ট্যাক্স-ভ্যাট বা বিএসটিআই সদন ও অন্যান্য কাগজপত্রে প্রতি এমন উদাসিনতা ও গা ছাড়া ভাবের পিছনে জড়িয়ে আছে ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত ফরিদপুরের 'জামাই' রূপী ওই 'পীর' কর্মকর্তা বজলুল রশিদ খান-এর ফু-ফাক্কা ও আশীর্বাদ। শুধু পানি নয়, জেলার অনেক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই জামাই বজলুর আশীর্বাদপুষ্ট! এছাড়া, এ পীরের আবার মাঝে মাঝে 'জামাই আদর' কম হলে অথবা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে অভিযানের তাগিদ আসলে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা অফিসার হিসেবে সিভিল সার্জনের সাহায্য নিয়ে অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা করেন।
ফরিদপুরে বিয়ে করা প্রকৃত পক্ষেই এ এলাকার জামাই ওই ভদ্রলোক বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে কোনো প্রকার যৌতুক নিয়েছেন কিনা, সেটা এ অনুসন্ধানে না জানা গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাশোয়ারা নেওয়ার দীর্ঘ দিনের অভিযোগ রয়েছে।
পানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও যার ব্যতিক্রম নয়, একটু চোখ কান খুললেই কারোরই মিলবে এসব তথ্য। শুধু বজলুর রশিদ খানকে মাশোয়ারা দিয়েই পাড় পেয়ে যায় অনেক অবৈধ ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমন অভিযোগ এখন ফরিদপুরে দুতভাত। অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগাম খবর পৌঁছে সতর্ক করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট ভালো মানুষ হওয়ার নজিরও এ কর্মকর্তার রয়েছে। বিশেষ করে, গোয়েন্দা তথ্যে ভিত্তিতে যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়, সেসব অভিযানে তাঁর আশীর্বাদপুষ্ট শিশ্যদেরই তিনি এসব তথ্য দিয়ে থাকেন। অবশ্য তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন স্যারদের ম্যানেজ করেই এসব কাজ করে থাকেন বলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার এসব কথা অকপটে ঘনিষ্টদের নিকট স্বীকারও করতেন তিনি। অতিমাত্রার কনভেনসিং পাওয়ার সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব বজলুর রশিদ খানের লাগামহীন দূর্নীতি, অতিমাত্রায় নারী আসক্তি ও মাশোয়ারার বিষয়ে অবগত রয়েছেন ফরিদপুরে কর্মরত প্রায় প্রতিটি একটিভ সংবাদকর্মী, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও অনেক সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু পুরাতন সদস্যও। তাঁর বিষয়ে বেশকিছু নিউজ প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও কম হয়নি। আর উপরোক্ত অভিযোগের কারণে গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বজলুর রশিদ খানকে ফরিদপুরে ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বদলির পর কিছুদিন বাইরে থেকে আবারও এ 'পীর জামাই' তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা ব্যবহার করে (নিন্দুকেরা বলেন ঘুষ দিয়ে বদলি বানিজ্যের সাহায্যে) পুনরায় নিজ শ্বশুরবাড়ীর এলাকা ফরিদপুরে ফিরে আসেন।
জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও জেলা স্যানেটারি ইনস্পেক্টর বজলুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে চাইলেই স্থানীয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও তাঁর নিজ দপ্তর সিভিল সার্জন কার্যালয় সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে বেড়িয়ে আসতে পারে দূর্নীতি করে নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তি অর্জন সহ ভয়ংকর ভয়ংকর কিছু তথ্য। তাঁর এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি রাখে বৈকি।
এদিকে, ফরিদপুর অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে খাবার পানি প্রতিষ্ঠানের সর্বমোট পরিখ্যান বা তালিকার কোনো তথ্য নেই। রয়েছে শুধু নিজেদের সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু তথ্য।
খোঁদ বিএসটিআই অফিস প্রধান ও উপপরিচালক মো. কামাল হোসেনেরও অজানা তাঁর অঞ্চল তথা- ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলায় ঠিক কয়টি খাবার পানির বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁর ধারণা এ সংখ্যা ২০-২৫ টি হতে পারে হয়তো! কিন্তু উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এ অনুসন্ধানে এ সংখ্যা বেড়িয়ে এসেছে তা কামাল হোসেনের ধারণা থেকেও অনেক বেশি। ফরিদপুর জেলা ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৮১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলা ও পৌরসভা বাদ দিলেও জেলার প্রায় প্রত্যেকটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২ থেকে ৫টি খাবার পানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে। তাই, নিম্ন সংখ্যায় বিবেচনা করলেও শুধুমাত্র ফরিদপুর জেলায় কমপক্ষে ১৫০টির বেশি খাবার পানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলা যেতে পারে। জেলা ও উপজেলা শহর এবং পৌরসভা এলাকা বিচেচনায় সে সংখ্যা বাড়বে ছাড়া কমার সুযোগ খুবই কম। সঠিক হিসেবের তথ্য যেহেতু সরকারি কোনো দপ্তর দিতে পারেনি আর উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের পক্ষেও প্রত্যেক বাড়ি-বাড়ি গিয়ে যাচাই-বাছাই ও গণনা করা সম্ভব হয়নি! এক্ষেত্রে ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলাকে হিসেবে ধরে বিএসটিআইয়ের এ আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওয়াভুক্ত কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০টি খাবার পানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য ধারণা পাওয়া গেছে! যার মাত্র ৪টিতে রয়েছে বিএসটিআই -এর অনুমোদন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়। বাকী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়নি বিএসটিআইয়ে।
অপরদিকে, ফরিদপুরের মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেয়, টিআইএন থাকলেও নিয়মিত ট্যাক্স দেয়না বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুরুতে বিএসটিআই প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ মাস সময় দিলেও বছরের পর বছর ধরে বিএসটিআই সহ সরকারি কাগজপত্র ঠিকঠাক না করে, শুধুমাত্র বজলুর রশিদ খানের মতো কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে জামাই আদর করলেই অনায়াসেই ব্যবসা করতে পারেন- বিশুদ্ধ খানার পানি প্রতিষ্ঠান সহ তাঁদের অনুগত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও!
অপরদিকে, সরকারি অনুমোদন বিহীন বা আংশিক কাগজপত্র করা এসব প্রতিষ্ঠানের পানি আদৌতে কতোটা মান সম্মত বা বিশুদ্ধ তা জানার সুযোগও নেই ভোক্তা পর্যায়ের সাধারণ মানুষের।
এছাড়া, বজলুর রশিদ খান সহ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের বিষয়ে উঠে আসা উপরোক্ত অনিয়ম ও অভিযোগ বিষয়গুলো যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
(আরআর/এসপি/জুন ২৩, ২০২৬)
