ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, ওসি প্রত্যাহার
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক মির্জা প্রান্তর মৃত্যুর ঘটবার পর ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম, স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে একই দিন বেলা একটার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুধু ডিবির ওসিকেই প্রত্যাহার করা হয়নি, ওই দিনের অভিযানে অংশ নেওয়া সব পুলিশ সদস্যকেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গত শনিবার বিকেলে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে এবং তাঁর মায়ের সামনেই মারধর করে। পরের দিন রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে মৃত্যু হয় তাঁর।
তবে ইশতিয়াক মির্জা প্রান্তর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি। এ ঘটনায় গত সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা–খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পরিবারের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেয় এলাকাবাসী।
একই দিন জানাজার আগে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, শুধু ওসি প্রত্যাহার নয় এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন নিহত ছাত্রলীগ নেতার ও এলাকাবাসী।
(আরআর/এএস/জুন ২৪, ২০২৬)
