তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : টুঙ্গিপাড়ায় প্রভাবশালীদের ব্যাক্তি স্বার্থের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা অসম্পূর্ন থাকা ও পার্শ্ববর্তী বিকল্প চলাচলের রাস্তা স্বাধীন ভাবে ব্যবহার করতে না পেরে এক রকম অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে ২০টি পরিবার। এতে দিনমজুর ভ্যান চালক দের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাধ্যতামূলক বাড়িতে প্রবেশ এবং রাতবিরেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের অবস্থা চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের চর গওহরডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত (ABC ব্রিক্স) ইট ভাটা ও জুটমিল এর স্বত্বাধিকারী ইবাদত খলিফার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি প্রভাবশালী দের ব্যাক্তি সুবিধার জন্য অন্যদের চলাচলের স্বাধীনতা হারিয়েছে। এমন কি তাদের জন্য সরকারি রাস্তা ও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে (মোল্লাহাট-পাটগাতী) পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ পাকা রাস্তা থাকলেও রাস্তার গোঁড়া অসম্পূর্ণ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়ার এক মাত্র শিল্পকারখানা স্থানীয় বাসিন্দা ইবাদত খলিফা এর জুট মিল থাকার কারণে রাস্তাটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ হলেও রাস্তার কোনো গোড়া নেই, অনেকটা গোড়ায় গিট ছাড়াই মালা গাঁথার মত। কাজেই ওখানে থাকা প্রায় ২০টি পরিবার তাদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ইবাদত খলিফার ইট ভাটার মধ্য দিয়ে চলাফেরা করতেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সেখানে চলাফেরায় ও স্বাধীনতা হারিয়েছে বলে দাবি করেন ঐ ২০ পরিবারের সদস্যরা। কারন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঐ পথের গেইট আটকে দেওয়া হয় ফলে ইট ভাটা কতৃপক্ষের সময়ের সাথে তাদের কে ও চলতে হয়, যেটা অনেক টা অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করে। রাতে অসুস্থ রোগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়া সহ ভুক্তোভুগীরা অভিযোগ করেন রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ২০০ ফিট রাস্তার বেড়ি ও তারা তাদের ব্যাক্তি স্বার্থের জন্য কেটে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ এর স্ত্রী খালেদা বেগম (৫৯) বলেন, আমরা মারা গেলেও আমাদের দেখার কেউ নেই। ঈদের দিন ও গেইট টা আটকে রাখছিলো। আমার স্বামী হতদরিদ্র মানুষ ভ্যান চালিয়ে খায়। তবুও আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের (সন্ধ্যার আগেই) ঘরে ফিরতে হয়, তা না হলে আর ঢুকা যায় না। আমাদের চলাফেরায় কোনো স্বাধীনতা নেই এমন কি রাতবিরেতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া এক প্রকার যুদ্ধ করার মত অবস্থা।

অপর এক ব্যক্তি মোয়ের আলি শেখ (৬০) বলেন, জুট মিলের কারণে রাস্তা করতে পারে নাই সরকার। যা একটু রেখে গেছিলো সেখান থেকেও বেশ খানিকটা কেটে ফেলছে। আমরা এখানের কয়েকজন পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকি অনেক টা। আমরা চলাফেরা করতাম ইবাদত খলিফার ইট ভাটার ভেতর দিয়ে, সেখানেও এখন নির্দিষ্ট সময়ে গেইট লাগিয়ে দেয়। আমরা এটার সমাধান চাই।

এ বিষয়ে জুট মিল ও ইট ভাটা কতৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে জুট মিলের স্বত্বাধিকারী ইবাদত খলিফার ছেলে খালিদ হাসান বলেন, আমাদের উপর আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। ইট ভাটার মধ্যে থাকা রাস্তা পূর্বে সব সময় খোলা থাকতো। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সন্ধ্যা নামলেই ওখানে শুরু হয় মাদক ও নেশার আসর। আশেপাশের সব মাদক কারবারিদের আনাগোনায় তখন এটাকে আর ইট ভাটা মনে হয় না, মনে হয় মাদকের আখড়া। আমরা কয়েকবার টুঙ্গিপাড়া থানায় অভিযোগ ও করেছি। কিন্তু কোনো ভাবেই এটা ঠেকাতে না পেরে আমরা এখন সন্ধ্যা নামলেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গেইট বন্ধ করে দেই। কিন্তু আমাদের নাইট গার্ড সব সময় ওখানে থাকেন। কারো প্রয়োজন হলে সাথে সাথে গেইট খুলে দেওয়া হয়।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়া ও ২০০ ফিট রাস্তার বেড়ি কেটে ফেলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়ার একমাত্র শিল্প কারখানা এটি। আমরা পূর্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে শর্ত সাপেক্ষে রাস্তা নির্মাণের কথা বলেছি কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মানতে পারেনি এবং রাস্তার কাজ ও সম্পুর্ন হয়নি। সেই সাথে জুটমিল পর্যন্ত রাস্তার বালু কেটে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

বড় বাজেটের এই রাস্তা নির্মাণ এর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কেন এখনো কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া) পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া ফেরদৌস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি পুরোনো ফাইল দেখে তথ্য দিবেন বলে প্রথমে আস্বস্ত করেন। কিন্তু তারপর দীর্ঘ দুই দিন যাবত একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেয়নি। তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন বলেন, অভিযোগ কারী সদস্যদের সমস্যা নিরসনে প্রসাশনিক ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের মৌলিক অধিকার চলাফেরায় স্বাধীনতা চেয়ে এবং সরকারি রাস্তা পরিপূর্ণ নির্মাণ সহ অবরুদ্ধ জীবন থেকে অব্যাহতি পেতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তোভোগী ওই ২০ পরিবারের সদস্যরা।

(টিবি/এসপি/জুন ২৪, ২০২৬)