বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দেওয়ায় সেই মহিলা মেম্বারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : এখতিয়ার বর্হিভূত সালিস করায় রিনা বেগম নামে এক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। আজ বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলা ৭১ ও আগের দিন উত্তরাধিকার নিউজ পোর্টালে “এখতিয়ার বর্হিভূত বিচারে বিবাহ বিচ্ছেদের রায়!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর এ নোটিশ এইএনও। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানান, উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি এখতিয়ার বর্হিভূত সালিস বা বিচার কার্য করছেন। যা গ্রাম্য আদালত আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরণের বিচার করা মহিলা মেম্বারতো দূরের কথা গ্রাম আদালতেরও এখতিয়ার নেই। তাই তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা মোঃ উজ্জল ঢাকায় চায়না প্রজেক্টে কর্মরত থাকার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে থাকেন তিনি। এই সুযোগে তার স্ত্রীর সাথে স্থানীয় আজিজুল শেখ নামের এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত কয়েকদিন আগে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দু’জনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় যুবসমাজ ও এলাকাবাসী। ঘটনার রাতেই বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রিনা বেগম সময় চেয়ে নেন বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার দু’দিন পর পুনর্বাসন কেন্দ্রের আলতাফ শেখের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এক সালিস বৈঠক বসে।
অভিযোগ উঠেছে, বিচার কার্য পরিচালনায় ও আনুষঙ্গিক খরচ-এর অজুহাত দেখিয়ে পরকীয়া কান্ডে জড়িত দুই পক্ষ থেকেই ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন মেম্বার রিনা বেগম।বিচারের নামে এই অর্থ আদায়ের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিচারের নামে বিচার করতে টাকা লাগবে কেন? আর বিচার যদি ন্যায়সঙ্গত হয়, তবে দ্বিতীয় তলার ঘরের দরজা বন্ধ করে কেন বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে?"
এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি চক্র ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনৈতিক ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বিচারকে বাণিজ্য বানিয়ে ফেলার কারণেই সমাজে পরকীয়ার মতো অনৈতিক কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সালিস সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ উজ্জল তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার ৩ মাস পর আজিজুল শেখ ওই নারীকে বিয়ে করতে পারবেন বলে রায় দেওয়া হয়েছে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয়েছে। তবে এই রায় নিয়েও চরম সংশয় প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা আজিজুল ৩ মাস পর আদৌ ওই নারীকে বিয়ে করবে, নাকি মেম্বারের এই কথিত বিচারের আড়ালে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যাবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় ইউএনও ওই মহিলা ইউপি সদস্যকে বিচার বর্হিভূত সালিস করায় বৃহস্পতিবার এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
(এমকে/এসপি/জুন ২৫, ২০২৬)
