হত্যা ও লুটপাটকারীদের আইনের আওতায় আনতে এমপি হারুনের কঠোর নির্দেশ
একে আজাদ, রাজবাড়ি : সম্প্রতি রাজবাড়ীর পাংশায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংগঠিত হত্যাকান্ড, বাড়ীঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাঠের ঘটনার সাথে জরিতদের আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে খুন হওয়া জামির বিশ্বাসের বাড়ী পরিদর্শনে এসে রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি পুলিশ ও ইউএনওকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এই হত্যাকান্ড এবং বাড়ীঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাঠের ঘটনায় কোনো নিরাপরাধ ব্যাক্তিকে যেন ফাঁসানো হয়। মুল অপরাধী যারা তাদের দ্রুত চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এবং সবার আগে আইনের আওতায় আনা হবে যারা এই ঘটনার নের্তৃত্বে দিয়েছেন। তাদের ধরতে পারলে এই অঞ্চলে আর অশান্তি হবে না। বর্তমান সরকার এ অপকর্মে জিরো টলারেন্স। ফলে বিচারের জন্য একটু ধর্য্য ধরতে হবে। এবং বিচার হবে। ইতিমধ্যে লুট হওয়া ১৮টি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং সাময়িক উপকারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করা।
এর আগে নিহত জামির বিশ্বাসের কবর জিয়ারত করেন এমপি সহ দলীয় নেতাকর্মীরা। পড়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ী-ঘর পরিদর্শন করেন।
এ সময় রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ হারুন-অর-রশিদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল হক, পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পাংশা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি বাহারাম সরদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবাব উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট ও পাট্রা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শনি ও রবিবার কয়েকদফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় জামির বিশ্বাস (নিহত) গুরুতর সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। জমির বিশ্বাসকে প্রথম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে এলাকায় জমির বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজনের শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
পড়ে বুধবার (২৪ জুন) রাতে নিহত জামির বিশ্বাসের ছেলে রিপন বিশ্বাস বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত জামির বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের মো: হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে।
(একে/এসপি/জুন ২৭, ২০২৬)
