স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। সরকার গত ৪ মাসেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ‍ও অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। 

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপটির আয়োজন করে ব্র্যাক এবং বি-স্ক্যান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে অনেকক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের একত্রে কাজ করতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। কর্মসংস্থানে সক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কার্যক্রম নেওয়া হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির বিকল্প সভাপতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। সংলাপে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সদস্য করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি এবং আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। আইন থাকা যথেষ্ট না, কীভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও গৃহীত পদক্ষেপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রামের ডিসএবিলিটি ইনক্লুশন ইউনিটের লিড জাহিদুল কবীর। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষায় ২০১৩ সালে আইন করা হলেও এসব অধিকার বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। আইন বাস্তবায়নে অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সুনির্দিষ্ট কাজের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ কম। অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আইন বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির অভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারায় কার্যকর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স ও টেকনোলজি কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর। বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের সঞ্চালনায় সংলাপে সারা দেশ থেকে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভারিসিটি কর্মসূচির হেড মাসুমা বিল্লাহ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সমাজে প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য দৃষ্টিভঙ্গিগত, পরিবেশগত আর প্রতিষ্ঠানিক বাধা রয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে স্থান দেওয়া জরুরি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করতে একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করে তা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্দ্যোগ এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

(পিআর/এসপি/জুন ২৭, ২০২৬)