রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরের মেলান্দহে ৯ মাস বয়সী নিজের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে আটক হওয়া মা শ্রাবন্তী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে তাকে পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে ধরে এনে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

আজ রবিবার সকালে উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা।

অভিযুক্ত শ্রাবন্তী আক্রার জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর মাঠপাড় এলাকার মুন্তাজ আলীর মেয়ে এবং গোয়ালবাড়ি এলাকার হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, রাতে নয় মাস বয়সী একমাত্র ছেলে শাওনকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে স্বামী হুমায়ুন দেখেন- বিছানায় তার স্ত্রী ও ছেলে নেই। ঘরের দুটি দরজাই খোলা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শ্রাবন্তীকে পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী বেপারীপাড়া এলাকায়। তাকে ধরে আনার পর বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশু শাওনের মরদেহ উদ্ধার করে লোকজন।

পুলিশ জানায়, ছেলেকে হত্যার অভিযোগে হুমায়ুনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রাবন্তীকে বাড়ির পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শ্রাবন্তীকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে দরজায় টোকাটুকির শব্দ শুনে আমি ছিটকিনি খুলে দিই। এ সময় আমার মুখে রুমাল চেপে ধরে সিএনজিতে তোলে মুখোশপরা অচেনা এক ব্যক্তি। তারপর আমি জ্ঞান হারাই। যখন আমার হুঁশ ফেরে তখন দেখি- সকাল হয়ে গেছে আর আমি ভাবকী বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে আছি।

সন্তানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে কারা মেরেছে, তা জানি না আমি।

এ বিষয়ে স্বামী হুমায়ুন আহমেদ জানান, ছেলসহ একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছিলা মআমরা। ভোর সাড়ে ৪ টায় ঘুম ভাঙলে দেখি- ছেলে এবং স্ত্রী বিছানায় নেই। ঘরের দুটি দরজাই খোলা। আমি বাথরুম ল্যাট্রিন ঘুরে এসে তাদের না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি।

তিনি আরও জানান, এর আগেও কয়েকবার পালিয়ে গিয়েছিল শ্রাবন্তী। সে একাধিক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলত। এ ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কারো সঙ্গে হয়তো পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ওর। তাই ও-ই আমার ছেলেকে সরিয়ে দিয়েছে।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত গৃহবধূ ও নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে শিশুটির লাশ। অভিযুক্ত গৃহবধূর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

(আরএম/এসপি/জুন ২৮, ২০২৬)