সোনাতলায় ১৬ হাজার মানুষের মহাভোজ, অলৌকিক নাকি সুপরিকল্পিত, জনমনে নানা প্রশ্ন
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামে গত শনিবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক বিশাল গণভোজ। আয়োজকদের দাবি (২৬ জুন) শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পুরো রাত পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০টি চুলায় একযোগে রান্না করা হয়। পরদিন শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষকে খেতে দেয়া হয়। ফলে এই অনুষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য মতে, ভোজের জন্য প্রায় ১,৬০০টি চেয়ারগুলো টেবিলে সাজিয়ে বসার ব্যবস্থা ছিল। প্রায় ১৫০টি ডেকোরেটরের ডেকচি রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ব্যাচে প্রায় দের হাজার মানুষকে বসিয়ে পর্যায়ক্রমে খাবার পরিবেশন করা হয়। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং তুলনামূলক সীমিত জায়গায় সুশৃঙ্খল আয়োজন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক দাউদপুর কর্নিবাড়ি গ্রামের মৃত হাফিজার প্রধানের ছেলে মোঃ সোহাগ প্রধান।
তিনি জানান, পুরো আয়োজন বাস্তবায়নে প্রায় ১৬ লাখ টাকার কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ৭/৮ জন মিলে এই আয়োজন করেছি বলে দাবি করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাচ ভিত্তিক অতিথিদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়।
সরেজমিনে গেলে প্রধান আয়োজক সোহাগ প্রধান জানান, তিনি এসএসসি পাস এবং বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এডুকেশন ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুড়িয়া চৌরাস্তায় অবস্থিত। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট সড়ক ও বাড়ি নম্বর জানাতে পারেননি।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সোহাগ প্রধান কিছুদিন আগেও রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। হঠাৎ এত বড় আয়োজন করায় এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম নিয়েছে। কেউ কেউ অলৌকিক ভাবে অর্থ প্রাপ্তির গুঞ্জন ছড়ালেও এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, এত মানুষের সমাগম আমি আমার জীবনে দেখিনি। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, উত্তরবঙ্গে গত দুই থেকে চার দশকের মধ্যে এত বড় পরিসরের গণভোজ খুব কমই দেখা গেছে। ভোজের প্রধান আকর্ষণ ছিল বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী 'আলুঘাটি'।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু ও ছাগলের মাংস দিয়ে এই খাবার রান্না করা হয়। ডেকোরেটর এর বাবুর্চি দিয়ে অতিথিদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এতে সোনাতলা, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও সাঘাটা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থল তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এত মানুষের উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এলাকার কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা মনে করছেন। আয়োজকরাও অলৌকিক ঘটনার দাবি না করে ধারাবাহিক ব্যাচভিত্তিক খাবার পরিবেশনের কথাই জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় পরিবেশ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে এই ব্যতিক্রমী গণভোজ দীর্ঘদিন এলাকাবাসী মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
(বিএস/এসপি/জুন ২৮, ২০২৬)
