রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃদ্ধা মাকে মারধর করে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষক ছেলে ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২)। তিনি উপজেলার কলবাড়ী গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী। মামলায় তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম (৫৩) ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা (৪৫)’কে আসামি করা হয়েছে। মনিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ছেলে ও পুত্রবধূ দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তার নামে থাকা সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়া এবং তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন দুপুরে বড় ছেলে ও পুত্রবধূ লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারা বেগমের বসতঘরে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে ছেলে মনিরুল ইসলাম গোরানের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাত মুখে লেগে সামনের ১টি দাঁত ভেঙে যায় এবং ঠোঁট ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে পুত্রবধূ ঝর্ণা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তা নাকে লেগে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও মুখে লাথি মারে এবং যে যার মত তাকে চড়, কিল, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় আনোয়ারা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে নাছিমা খাতুনকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত আনোয়ারা বেগম কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তার বক্তব্য অনুযায়ী লিখিত এজাহার মেয়ের মাধ্যমে শ্যামনগর থানায় দাখিল করা হয়।

অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের মুটোফোনে কল করলেও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(আরকে/এসপি/জুন ২৮, ২০২৬)