সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ২০১৬ সালের ২৯ জুন রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে বসে পৌরদীঘিতে চুরি করা মাছসহ দৈনিক ইনক্লাবের সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে আটকের ঘটনায় পৌরসভার নৈশপ্রহরীর অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় দায়েরকৃত মানহানির মামলায় দীপ্ত টেলিভিশন, প্রজন্মের ভাবনা ও বাংলা ৭১ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ ও দৈনিক প্রজন্মের ভাবনার সম্পাদক মোহিত কুমারে নাথকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল এক জনাকীর্ণ আদালতে এ আদেশ দেন।

মামলার বাদি আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একসময়কার দৈনিক প্রত্যাশা ও বর্তমানে ইনক্লাবের সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রেসক্লাবের সামনে বসে ছিপ দিয়ে পৌরদীঘির মাছ চুরি করতেন। বিষয়টি তাকে সতর্ক করেন পৌরসভার নৈশ প্রহরী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এরপরও তিনি বেপরোয়া ছিলেন। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ২৯ জুন পবিত্র রমজান মাসের বুধবার রাত ৯টার দিকে পৌরদীঘিতে চুরি করে মাছ ধরার সময় তাকে আটক করেন পৌরসভার নৈশ প্রহরী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এ সময় তার কাছ থেকে আড়াই কেজি তেলাপিয়া মাছ ও একটি ছোট রুই মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি পৌর মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৩০ জুন অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে মাছ চুরির সময় ঘটনাস্থলে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, এম জিল্লুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও শাকিলা ইসলাম জুঁই উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় “অবশেষে মাছ চুরি করতে যেয়ে ধরা পড়লেন সাতক্ষীরার বাচ্চু” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। একপর্যায়ে তিনি ওই বছরের ১৮ জুন সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম আদালতে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. শেখ আজাহারুল ইসলামের সহায়তায় দৈনিক প্রজন্মের ভাবনার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ ও সম্পাদক মোহিত কুমার নাথ এর বিরুদ্ধে ৫০৫, ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে শমন জারির নির্দেশ দেন।

নিয়মবহির্ভুতভাবে মামলায় ৫০৫ ধারা সংযুক্ত করায় তা পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়। ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলার অভিযোগ গঠণ করা হয়। মামলায় বাদি পক্ষে সাক্ষী দেন মাছ চুরির সময় উপস্থিত থাকা সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি ও তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী শাকিলা ইসলাম জুঁই। সাক্ষী প্রদানকালে মামলার বাদি নিজেকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ উল্লেখ করলেও আদালতে তা দেখাতে পারেননি। কারণ তিনি শাঁখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যায়। তবে পরে তিনি উন্মুক্ত বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালান।

আক্তারুজ্জামান বাচ্চু নিজেকে কখনো ডিজিএফআই, কখনো র‌্যাব এর সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড, মোসলেমউদ্দিন ও অ্যাড. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ২৪৫(১) ধারায় সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ ও সম্পাদক মোহিত কুমার নাথকে সোমবার বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এ সময় বাদি ও আসামী কাঠগোড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

(আরকে/এসপি/জুন ২৯, ২০২৬)