মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। প্রতিটি ঘরে হরহামেশাই মিলছে ইয়াবা, গাঁজাসহ নানান ধরনের মাদকদ্রব্য। এতে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে মাদকাসক্ত হয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। ভবিষ্যত অনিশ্চয়তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে অভিভাবককরা। এমন-ই যখন লৌহজংয়ের অবস্থা, তখন সারা দেশের ন্যায় লৌহজংয়ের লোকেরাও ফুসে উঠেছে মাদক পল্লী উচ্ছেদের দাবী নিয়ে। ফেস বুক খোললেই চোখে পড়ে মুন্সীগঞ্জের মাদকের রাজধানী বলে পরিচিত লৌহজংয়ের গোয়ালী মান্দ্রা বেদে পল্লীটি উচ্ছেদ করার জন্য। আর এই উচ্ছেদের ভয় যখন বেদে পল্লীতে গিয়ে পড়েছে, তখন গোয়ালীমান্দ্রার বেদে পল্লীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। যখনই তারা সম্মুখ বিপদ দেখেন, তখনই তারা এরকম নানা কৌশল অবলম্বর করে প্রশাসনকে ধোকা দেয়। আজ সোমবার উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমনটিই জানান, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাসুদ খানসহ একাধিক বক্তা। তারা এই নিয়ে বেশ ত্যাক্ত- বিরক্ত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা সভায় বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারে পক্ষ থেকে বেদে সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এতে বেদেদের মধ্যে এখন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়াসহ উচ্চ শিক্ষিত লোকও রয়েছে। কিন্তু এদেরই এক শ্রেনীর অসাধু লোকজন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে গোয়ালীমান্দ্রা বেদে পল্লীকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে। এ মাকদকে কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি ডাকাতিসহ নানা ধরণের অপরাধ বেড়ে গেছে। এমনকি তারা মাদক উদ্ধারে যাওয়া ডিবি পুলিশের উপরও আক্রমন করেছে। বর্তমান সরকার যখন মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে তখন, তখন তারা এই অভিযান থেকে বাচতে মাদক বিরোধী বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করেছে।

গত বৃহস্পতিবার এমনই একটি বিক্ষাভ মিছিলের নের্তৃত্ব দেন গোয়ালী মান্দ্রা বেদে পল্লীর চিহ্নিত মাদক কারবারী ও একাধিক মাদক মামলার আসামী তৈয়ব ইসলাম মোল্লা, ছামিউল মোল্লা, সাইদ খান, মোঃ রাজেস, আনারুলসহ অনেকে। এদের মধ্যে আবার তৈয়বের রয়েছে চোরাই মাল বেচা-কেনার কারবার। ব্যানারে এনামুল মামা নাকে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি হচ্ছেন গোয়ালী মান্দ্রার মাদকের গড ফাদার ও একাধিক মামলার আসামী। তার এরকম মাদক বিরোরী কার্যক্রমে বক্তারা সভায় বিস্ময় প্রকার করেন ও এদেরকে দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনতে বলেন। নতুবা লৌহজংয়ের ভবিষ্যৎ বলে আর কিছু থাকবেনা।

এছাড়া এছবর বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের পাকিং ইয়ার্ড নতুন করে ইজারা দিয়েছে। ১ লা জুলাই থেকে নতুন ইজারাদার এ পাকিং ইয়ার্ডে গাড়ী থেকে টোল আদায় করবেন। কিন্তু মূলত এই পাকিং ইয়ার্ডে হোটেল রেস্টুরেন্টসহ নান রকম দোকান বসিয়ে ব্যবসা কার্যক্রম চালানো হয়। তাই এখানে কেউ গাড়ী নিয়ে আসলেও টোল দিয়ে হয় পাকিং ইয়ার্ডের নামে। এবার আবার আরও একটি নতুন টোল চালু করতে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে কোন পর্যটক যদি গাড়ী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে বেড়াতে আসে তবে তাকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে ২ বার টোল দিতে হবে। এ বিষয়ে সভায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এতে পর্যটকরা শিমুলিয়া ঘাট মুখী না হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই টোল বাতিলের দাবী জানানো হয়। এছাড়া উপজেলার অন্যন্যা আইন শৃঙ্খলার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভার সভাপতি লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু দুটি টোল আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এরকম বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এটি বালিতের জন্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি সভাকে আশ্বস্ত করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, লৌহজং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম, লৌহজং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ্দৌলা, লৌহজং থানা অফিসার ইনচার্জ মো. বোরহানুল ইসলাম, পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম মোল্লা ও ওমর ফারুক অবাক, লৌহজং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. বাদল হাওলাদার, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খান, লৌহজং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের লিমন, লৌহজং প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শওকত হোসেন, সাধারন সম্পাদক মো. মানিক মিয়া, সাংবাদিক মিজানুর রহমান ঝিলু প্রমূখ।

(এমকে/এসপি/জুন ২৯, ২০২৬)