রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও দালাল ঠিকাদারদের এখনো বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেওয়ার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে সম্প্রতি অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন রাঙ্গামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ের চিৎমরম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর ধরে উপজেলা এলজিইডি ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের বড় বড় ঠিকাদারি কাজ একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও আওয়ামী  সরকারের সেই ঠিকাদাররা এখনো কীভাবে বহাল তবিয়তে ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  

অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন একাধিক ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করেন, যারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঠিকাদার বাবলু, সৈকত আলী, মুন্না, রাসেল, রাজু।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আওয়ামী সরকারের পতনের পর ওইসব ঠিকাদার পালিয়ে থেকে এখনো কীভাবে এসব কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ওই ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্তরসূরী ঠিকাদারদের কতিপয় বিএনপি নেতা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনদের ঠিকাদারী কাজে প্রতিষ্ঠিত করছে, বিষয়টি বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের দলীয়ভাবে দেখা প্রয়োজন। বিএনপি নেতা জয়নাল লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জেলা বিএনপি'র সভাপতি সম্পাদক বরাবরে এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি নেতা জয়নাল বলেন, বিএনপি দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আমার এই অভিযোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার বাবলু বলেন, যে কোন মানুষের মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিষ্ট কিভাবে হয়? আমার জানামতে ঠিকাদারী কাজে আমি কোন অনিয়ম-দূর্নীতি করিনি, আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যতগুলি ঠিকাদারী কাজ পেয়েছি সব কাজ সুষ্ঠু, সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করেছি। তবে আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলাম। অপর ঠিকাদারদের কল করা হলেও তারা কল রিসিভ না করায় তাদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

(আরএম/এসপি/জুন ২৯, ২০২৬)