চোর অপবাদে প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলে চোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তার বড় ভাই। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত প্রতিবন্ধী যুবকের নাম আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁচগ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালো বাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহত আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী।
গত ২৪ জুন সকালের দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তারা জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও ফোলা সৃষ্টি হয়।
এজাহার অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের দাবি।
আহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন জানান, আমার ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা জানান, ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল লোকটি। ছেলেটি চোর বলে ডাক দিলে স্থানীয় অনেক লোক ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মেরেছে সেটি জানিনা। সেখানে অনেক লোক ছিল। পরে আমার ছেলেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
নড়াইল সদর থানার পুলিশ কর্মকর্তা ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানায়, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আরএম/এসপি/জুন ৩০, ২০২৬)
