রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : অপহরণের দুই সপ্তাহ পরেও উদ্ধার হয়নি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী রিফা তাসফিয়া। এমনকি পুলিশ নেয়নি মামলা। ফলে অপহৃতের পিতা মেয়েকে ফিরে পাওয়া ও অপহৃতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের শিক্ষক ও শ্রীরামপুর গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, তার মেয়ে রিফা তাফসিয়া তারই কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো। প্রাইভেট পড়তে যেতো কলেজের পাশে শিক্ষক সোহরাব হোসেন পলাশের বাড়িতে। কলেজে ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া ও আসার পথে চৌবাড়িয়া গ্রামের আজগার আলীর ছেলে অয়েজ কুরুনি, ইসমাইল বিশ্বাসের ছেলে আল আমিন, মুসাব্বিরুল হক মুসার ছেলে আল মামুনুল হক তাকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ওই তিন ছেলের অভিভাবককে অবহিত করলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়েগত ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার মেয়ে রিফা তাফসিয়াকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে ওই তিন যুবক। খবর পেয়ে আজগার আলীর বাড়িতে গেলে তাকে হেঁকে বের করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে রাতেই তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নামেন উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান।

ওই অভিযোগের আলোকে ২৩ জুন আজগার আলীসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়। কিন্তু অপহরণের দুই সপ্তাহ পরেও মেয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক হতে ১০ মাস বাকী। আসামীরা কোন ডিভাইস ব্যবহার করছে না। ফলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, এসব কথা বলে কাল বিলম্ব করছেন। নিচ্ছেন না মামলা। অপহরণের দিন থেকেই ভোমরার সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের জিম্মায় ওই মেয়ে ও আসামীরা রয়েছে পুলিশকে জানালেও ওই সাবেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তার মেয়েকে অপহরণকারিরা বাঁচিয়ে রেখেছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে অপহরণকারীদের সখ্যতা রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ মামলা রেকর্ড না করায় র‌্যাব ভিকটিম উদ্ধারে এগিয়ে আসতে পারছে না।

এ ব্যাপারে সদর থানার উপপরিদর্শক আনিছুজ্জামান জানান, ভিকটিম উদ্ধারে তিনি সার্বিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভোমরার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের সাথে তার কয়েক দফায় কথা হয়েছে। আসামীদের সাথে তার কোন সখ্যতা না থাকার কথা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মামলার ব্যাপারে থানা বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, অপহরণকারিরা কোন ডিভাইস ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও কেন মামলা নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখি কি করা যায়!

(আরকে/এসপি/জুলাই ০১, ২০২৬)