নড়াইলে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্য গ্রেপ্তার, গলিত সোনা উদ্ধার
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামে একটি ডাকাতির ঘটনায় টানা তিন দিনের বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য এবং লুটের মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া লুণ্ঠিত গলিত সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রবিবার দুপুরে নড়াইল জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে নড়াগাতী থানার পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের সালাহ উদ্দীন খাঁনের বাড়িতে একদল অজ্ঞাতনামা ডাকাত দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করে। ডাকাতরা গৃহকর্তার হাত বেঁধে, হত্যার ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় সালাহ উদ্দীন খাঁন বাদী হয়ে নড়াগাতী থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ বলছে, মামলার পর নড়াইল জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিসিআইসি এবং নড়াগাতী থানার একাধিক টিম যৌথ অভিযান শুরু করে। গত ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত গলিত সোনা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খুলনার তেরখাদা উপজেলার নদীয়ার চরের জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলী (৪৮), নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়ার জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার জোকারচরের পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), কালিয়া থানার শুক্তগ্রামের মফিজ খাঁ (৩৮), খুলনার তেরখাদার দীন ইসলাম মোল্লা (৪২) এবং খুলনার রূপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়ার স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ডাকাতদের বিরুদ্ধে নড়াইল, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পাখিমারা গ্রামের ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে নড়াইলসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
(আরএম/এসপি/জুলাই ০৫, ২০২৬)
