ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, পোল্ট্রি খাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধের দাম কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও ডিম ভেঙে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা।

আজ রবিবার দুপুরে উপজেলার মুলাডুলি বাজার এলাকায় ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে ঈশ্বরদী পোল্ট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক খামারি অংশ নেন। প্রায় ২০ মিনিট সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রতিবাদকারীরা জানান, উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ডিমের বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে থাকার সংকটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও ওষুধের উচ্চমূল্য এবং সহজ শর্তে ঋণের অভাবে প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খামারিদের দাবি—ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, প্রান্তিক খামারিদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো, ভেটেরিনারি ওষুধের ওপর শুল্ক হ্রাস এবং কর্পোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাব কমিয়ে ক্ষুদ্র খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

মুলাডুলি বাজারের বিসমিল্লাহ ভেটেরিনারির স্বত্বাধিকারী মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, একটি ডিম উৎপাদনে ৯ টাকার বেশি খরচ হলেও বর্তমানে খামারিদের ৭ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ডিমেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় খামারিদের ভাষ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যে পোল্ট্রি খাদ্যের বস্তা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তার দাম বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ওষুধের দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের দাম বাড়েনি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে দপ্তরকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

(এসকেকে/এসপি/জুলাই ০৫, ২০২৬)