মাদার নদীর চর দখল করে চলছে মৎস্য ঘের নির্মাণ, কাটা হচ্ছে বনায়নের গাছ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদার নদীর চর দখল করে মৎস্য ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য নদীর চরের বিভিন্ন স্থানের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের (রমজাননগর-কৈখালী ব্রীজ সংলগ্ন) মাদার নদীর চরে প্রভাবশালী একটি চক্র নদীর জেগে ওঠা চর নিজেদের দখলে নিয়ে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করে মৎস্য ঘের তৈরি করছে। ঘের নির্মাণের সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর চর সাধারণ মানুষের চলাচল, গবাদিপশুর চারণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের রুহুল আমিন গাজী, ইসমাইল সরদার, সামছুর কারিগর, আজগার কারিগর, কওছার আলী, সামছুর মহাজন, সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, আতিয়ার গাজী, মুনছুর মহাজন, আশরাফ মহাজনসহ কয়েক জন ব্যক্তি অবৈধভাবে চর দখল করে ঘের নির্মাণ শুরু করেছে। তবে তাদের দাবী নদীর চর বন্দোবস্ত নিয়ে মৎস্য ঘের করছে।
লেখক ও গবেষক পরিবেশবিদ পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু বলেন, নদীর চর ও তীরবর্তী গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে গাছ কাটা এবং চর দখল অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভাঙন, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, কৈখালী ইউনিয়নটি নদী বিশিষ্ট। নদীর চরে সামাজিক বনায়ন সৃৃষ্টির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি নদীর চর দখল করে বনায়ন ধ্বংস করছে। যা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। এসময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, নদীর চর দখলকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হলে এটা বন্দ হবে এবং অন্যরা ভয়ে দখল করা থেকে বিরত থাকবে।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, নদীর চর বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। কেউ যদি দখল করে থাকে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, নদীর চর দখল বা সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘের নির্মাণের সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(আরকে/এসপি/জুলাই ০৫, ২০২৬)
