রহিম আব্দুর রহিম : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল আজ  রবিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গবেষক, রাজনৈতিক চিন্তক এবং ভাষার জন্য নিবেদিত প্রাণ এক শিক্ষক।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম ও মা জাহানারা খাতুন।

যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ওই বিভাগেরই অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন তিনি এই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল অপরিসীম।

অধ্যাপক ফজলুল হক ছিলেন একাধারে লেখক, সম্পাদক ও চিন্তাবিদ। তীক্ষ্ণ দৃষ্টির এই বুদ্ধিজীবি সম্পাদিত ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকপত্র নিয়মিত প্রকাশ হতো।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০'র অধিক। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন,সাহিত্য চিন্তা ও সংস্কৃতির সহজ কথা। সম্পাদনা ও গবেষণামূলক প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে, ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্ত।যিনি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করণে আমৃত্যু কাজ করেছেন। বাংলা একাডেমি আইন-২০১৩ অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাঁকে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে নিয়োগ করা হয়।

নিয়োগকালে তিনি বলেছিলেন, "বাংলা একাডেমি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মননের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দীর্ঘ সময় একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এখন সবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক প্রচেষ্টায় একাডেমিকে তার নিজস্ব চরিত্রে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের চেষ্টা থাকবে।"

ব্যক্তিজীবনে তিনি সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে অধ্যাপক ডক্টর শুচিতা শরমিন বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।দ্বিতীয় সন্তান ফয়সাল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর তাঁকে জঙ্গিরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

নিভৃতচারী, মেধাবী ও আদর্শবান এক বুদ্ধিজীবী ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।যিনি ক্ষমতার চেয়ে চিন্তাকে, প্রচারের চেয়ে পাণ্ডিত্যকে বড় করে দেখেছেন। বাংলা ভাষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করেছেন আমৃত্যু। তিনি শুধু বাংলা একাডেমির সভাপতি নন, তিনি ছিলেন বাঙালির বিবেকের এক অনন্য শিক্ষক।

(আরএআর/এসপি/জুলাই ০৫, ২০২৬)