গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে স্ত্রী মিলি বেগমকে (৩০) পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের তানপুরা গ্রামে আলআমিন (৩২) শ্বশুরবাড়ির পুকুরে স্ত্রী মিলিকে নিয়ে গোছল করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ইউপি মেম্বর জানিয়েছেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক বিরোধে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।   

রাতইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বর রবিউল ইসলাম মিলির পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, তানপুরা গ্রামে মিজান শেখের মেয়ে মিলি বেগমকে ১২ বছর আগে আলামিন বিয়ে করেন। এ দম্পত্তির ৩টি সন্তান রয়েছে। আলআমিন বেকার ছিল। তাই মাঝে মধ্যে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থাকতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগেই থাকত। আজ সোমবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রী একসাথে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসল শেষে আলামিন একাই শ্বশুরের ঘরে ফিরে আসে। ঘর থেকে টাকা ও মোবাইল নিয়ে দ্রুত শশুরবাড়ি ত্যাগ করে। এসময় সন্তানদের হাতে টাকা দিয়ে খেয়ে আসতে বলে। বাচ্চারা মা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে পুকুর থেকে গোছল শেষে পরে আসবে।দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মিলি বেগম বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরে তাঁর মা পুকুর পাড়ে গিয়ে মেয়েকে পুকুরের পানিতে আসতে দেখেন। আমরাও তাকে পানিতে ভাসতে দেখি। বাড়িতে মিলির বাবা নেই। তিনি তার আরেক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। এখানে মিলির মা বেলী আছে। কিন্তু কথা বলারমতো কেউ নেই। তবে ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে মিলির স্বামী তাকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে। কারণ আল আমিনের মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করায় সে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গেছে।

ওই ইউপি মেম্বর আরো জানান, খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী-মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ জনিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।লাশের ময়না তদন্তের পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে। তারাপর পরবর্তী আইানানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

(টিবি/এসপি/জুলাই ৬, ২০২৬)