মেসি ম্যাজিকে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক : লিওনেল মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে ম্যাচে ফেরে চ্যাম্পিয়নরা। পরে অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে মিশর এগিয়ে যায় জিকোর গোলে। পরে দ্বিতীয়ার্ধেও তিনিই এগিয়ে নেন ৬৭ মিনিটে। এর আগে ৫৮ মিনিটে বাতিল হয় তার গোল। এরপর মেসির জাদুতে ৭৯ ও ৮৪ মিনিটে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। সবশেষ অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন দলকে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লিওনেল মেসির অ্যাসিস্টে ৭৯ মিনিটে এক গোল শোধ দেয় আর্জেন্টিনা। মেসি ডান দিক থেকে দারুণ একটি ক্রস তুলে দেন বক্সের ভেতরে। সেখানে উঁচুতে লাফিয়ে ওঠেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। তার শক্তিশালী হেডে বল জড়িয়ে দেন মিশরের জালে। অবশেষে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা, আর ম্যাচে ফেরার আশায় নতুন করে উজ্জীবিত হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পরে ৮৪ মিনিটে মেসিই গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন আর্জেন্টিনার আশা। এক মুহূর্তের অসতর্কতায় বড় মূল্য চুকাতে হয় মিশরকে। মেসি বক্সের ভেতরে গঞ্জালো মন্তিয়েলের কাছ থেকে নিখুঁত একটি পাস পান। একটুও সময় নষ্ট না করে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন মেসি। বল সোজা জড়িয়ে যায় মিশরের জালে। ২-২ সমতায় মেসি আশা বাঁচিয়ে রাখেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজ ডান প্রান্ত থেকে দারুণ ক্রস তুলে দেন বক্সের ভেতরে। সেখানে সঠিক সময়ে লাফিয়ে হেড করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই হেড মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে করে আর্জেন্টিনা! পিছিয়ে থেকেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। আর শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।
এর আগে, ৬৭ মিনিটে মিশর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে। হাইশিম হাসান বল টেনে নিয়ে যান আর্জেন্টিনার অর্ধে। এরপর পাস দেন মোহাম্মদ সালাহকে । তিনি ধৈর্য ধরে সতীর্থদের ওঠার অপেক্ষা করেন। তারপর আবার বল ফিরিয়ে দেন হাসানের পায়ে। হাসান নিখুঁত একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন বক্সের মাঝখানে, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন জিকো।
জিকো এবারও লক্ষ্যভেদে ভুল করেননি। তার শট জড়িয়ে যায় আর্জেন্টিনার জালে। এবার আর কোনো নাটক নয়। ভিএআরের বাধাও আসেনি। গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়, আর জিজো ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন।
স্টেডিয়ামের অধিকাংশ দর্শক মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তখন আরও বড় বিপদে, আর মিশর স্বপ্নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।
৫৮ মিনিটে হাইশিম হাসান লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্ধ থেকে দুর্দান্ত এক দৌড় শুরু করেন। এরপর তিনি বল বাড়িয়ে দেন সালাহর কাছে।
সালাহ নিখুঁতভাবে বল সাজিয়ে দেন জিকোকে। তিনি শান্ত মাথায় শট নিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। তবে গোলের উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিএআর ঘটনাটি পর্যালোচনা করার পর রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে আর্জেন্টিনা বড় এক ধাক্কা থেকে বেঁচে যায়, আর স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।
প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটে ম্যাচে প্রথম ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে আত্তিয়ার দুর্দান্ত বাঁকানো ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ অফসাইড ট্র্যাপ তৈরি করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন। সেই সুযোগে ইব্রাহিম তাকে আকাশে হারিয়ে শক্তিশালী হেডে বল আর্জেন্টিনার জালে পাঠিয়ে মিশরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর লিওনেল মেসি রেফারির কাছে অফসাইডের দাবি জানালেও রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল।
(ওএস/এএস/জুলাই ০৮, ২০২৬)
