রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো পাহাড় ধস, গাছ উপড়ে পড়া ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও নির্ঘুম রাত পার করছেন।

উপজেলার বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় পাহাড় ধসে সুইচিং উ মারমার বসতঘরের একাংশের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। সুইচিং উ মারমা জানান, পরিবারের সবাই চরম আতঙ্কে আছেন। পাহাড়ের আরও বড় অংশ ধসের আশঙ্কায় দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়ায় মো. নুরুল আলমের পরিবারসহ আরও অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে প্রবহমান প্রাকৃতিক ঝিরিটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। ঝিরির প্রবল তোড়ে নুরুল আলমের রান্নাঘর ও টয়লেটের মাটি ধসে যাচ্ছে এবং ঝিরির পাড়ের খুটি বা পিলারগুলো ভেঙে পড়ছে। এছাড়াও তার বাড়ির উপরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং পাশে থাকা ৪০-৫০ বছরের পুরনো বিশাল একটি গাছ যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তার পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

টানা বৃষ্টির ফলে রাইখালী, চন্দ্রঘোনা, ওয়াগ্গা ও চিৎমরমসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুচর এলাকায় পাহাড় ধস ও গাছ পড়ে ৭ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ একই এলাকায় পুনরায় গাছ পড়ে সড়ক বাধাগ্রস্ত হলে নৌবাহিনী ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় তা অপসারণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা এখনো ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

(আরএম/এসপি/জুলাই ০৮, ২০২৬)