রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই উপজেলাজুড়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লকগেট কুরুম এলাকায় প্রধান সড়কের পাশের বসতিগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পাহাড় ধসের কবলে পড়লেও টেকসই কোনো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল লিটন জানান, তাদের বসতভিটার ঠিক ওপরেই কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক। সড়কটির নিচে একটি টেকসই রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের জন্য তারা কয়েক মাস আগে জেলা পরিষদে আবেদন করলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।

তিনি বলেন, “সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতির কারণে আজ আমরা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে। একটি দেওয়ালের অভাবে আমাদের ঘরবাড়ি ও পাশের ১০ শয্যা হাসপাতালটিও হুমকির মুখে।”

আরেক বাসিন্দা ডেজি আক্তার বলেন, “সারা রাত আমাদের বসে কাটাতে হয়, কখন যেন পাহাড়ের মাটি ও সড়কের ঢাল ধসে আমাদের ঘরের ওপর পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও আমরা যেতে পারছি না। একদিকে ঘরে যুবতী মেয়ে, অন্যদিকে চুরি-ডাকাতির ভয়। ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল ফেলে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। মালামাল চুরি হওয়ার চেয়ে এখানে মৃত্যুই যেন শ্রেয় মনে হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রশাসনের লোকজন ছবি তুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহযোগিতা বা সুরক্ষা তারা পাননি। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। লকগেট কুরুমের সাথে নতুন বাজার ঢাকাইয়া কলোনি একি ভাবে ঝুকিপূর্ণ। শুধু কাপ্তাই ইউনিয়ন নয়, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া, চিৎমরম বাজার ঘাট ও চিৎমরম ভামনি পাড়া, ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বরইছড়ি মারমা পাড়া, কুকি মারা, মুরালি পাড়া এবং রাইখালী ইউনিয়নের মুতি পাড়া ও ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, "পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মাইকিং ও সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। জীবন রক্ষার্থে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণসহ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

(আরএম/এসপি/জুলাই ০৯, ২০২৬)