বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কুকুরের কামড়ে গাভী মৃত্যুর ঘটনায় হাতুরে পল্লী চিকিৎসককের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী খামারি উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ আকন্দ (চেনু)-এর ছেলে সাইফুল ইসলাম। 

সাইফুল জানান, গত ১৭ জুন সকালে তার খামারের দুইটি গাভী বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল। বেলা প্রায় ১১টার দিকে একটি কুকুর এসে গাভীকে কামড় দেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর চারালকান্দি এলাকার পল্লী প্রাণি চিকিৎসক পরিচয়দানকারী বুলু মিয়া ও তার ছেলে ভেলু মিয়াকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে ভ্যাকসিন দিলে শতভাগ গাভী সুস্থ্য হবে এমন গ্ৰ্যারান্টি দেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন এর জন্য তিনি ৪ হাজার টাকা পল্লী চিকিৎসককে দিয়ে দেন।

সাইফুল ইসলামের দাবি, প্রথম ভ্যাকসিন দেয়ার ক'দিন পর থেকে গাভীর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়তে শুরু করে। এঅবস্থায় দ্বিতীয় ভ্যাকসিন দেন ওই চিকিৎসক। ঘটনাটি চিকিৎসককে জানালে তিনি উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বুধবার (৮ই জুলাই) সকালে একটি গাভী ও পরের দিন বৃহস্পতিবার অপর গাভীটিও মারাযান। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বুলু মিয়া ও তার ছেলে বলেন, কুকুরের কামড়ের ঘটনায় নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন বাবদ ৪হাজার টাকা নিয়েছি। বুলু মিয়ার ছেলে ভেলু মিয়া আরো বলেন ভ্যাকসিনে কোনো ত্রুটি থেকে থাকলে সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বুলু মিয়ার ছেলে এছাড়াও জানান, আমি ন্যাশনাল এগ্রিকালচার প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় প্রাণিচিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, যদি জলাতঙ্কে আক্রান্ত (পাগলা) কুকুর গরুকে কামড়ে থাকে, জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে প্রাণীর শারীরিক অবস্থা, উপসর্গ এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া উচিত ছিল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হাসান বলেন, এই সমস্ত হাতুরে চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা না নেয়াই ভালো। তিনি অচিরেই এই সমস্ত হাতুরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কিছু হাতুড়ে প্রাণি চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেয়ার কারণে এর আগেও একাধিক খামারি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা এ ধরনের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

(বিএস/এসপি/জুলাই ০৯, ২০২৬)