রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার (১১ জুলাই) ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। ভোগান্তিতে রয়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

আজ শনিবার দুপুরের শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার কাটিয়া, কামালনগর, পলাশপোল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড়, সুলতানপুর, বদ্দীপুর কলনি, মধুমল্যার ডাঙি, মাঠপাড়া, মাছখোলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীন সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তার পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বাড়ির উঠান, রান্নাঘরে এমনকি বসতঘরে পানি জমেছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিয়া হল এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু জানান, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে। হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক ঠিকমতো চলতে পারছে না। প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যাবস্থা নেয়না দীর্ঘদিন । বাধ্য হয়ে তিনি আনসার- ভিডিপি ক্যাম্প ঘুরে আদালতে বা বড় বাজারে যাতায়াত করেন।

কাটিয়া এলাকার ফারুক হোসেন সোহাগ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার অবস্থা থাকেনা। পৌর সভার লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেন খুড়ে রাখলেও কাজ শেষ না করার কারণে বিপাকে পড়ে আছি আমরা । গেল দুদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রান্না ঘরে পানি জমেছে। এতে মশার উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত। অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আর টানা বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জুলফিকার আলী রিপন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এখন বেশ কয়েকদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশা পাশি হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে খাল ও নদী পুনঃখননের পাশাপশি সড়ক সংষ্কার কাজ চলছে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে। প্রাণসায়ের খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে শহরের সব ড্রেন সচল করে ওই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। চলতি বছরে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি আশাবাদী।

(আরকে/এসপি/জুলাই ১১, ২০২৬)