টানা বর্ষণে ধ্বসে পড়ল কালভার্ট, রাজস্থলীর কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া–কাকড়াছড়ি–নাইক্যছড়া সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ধসে পড়েছে। এর ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।
আজ শনিবার সকালে বাঙ্গালহালিয়া সিনেমা হল সংলগ্ন কুতুরিয়াপাড়া সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ছড়ার পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ সময় বেইলি ব্রিজের পাশ দিয়ে প্রবল স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে কালভার্ট ও সংযোগ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
সড়কটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেঙে পড়া কালভার্টের ওপর দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, এই সড়কটি বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম। সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াইসিং মারমা বলেন, 'সকালে এসে দেখি রাস্তার বড় অংশ ভেঙে গেছে। এখন কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। দ্রুত মেরামত না করা হলে আমাদের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে।'
কুতুরিয়াপাড়ার বাসিন্দা জিকু কুমার দে বলেন, 'এটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। রোগী হাসপাতালে নেওয়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাজারে যাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।'
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এলাকাটি পরিদর্শনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র সাময়িক সংস্কার নয়, বরং বর্ষা মৌসুমে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
(আরএম/এসপি/জুলাই ১১, ২০২৬)
