প্রাথমিক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুলে কৌশিকের গৌরবময় সাফল্য
বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : অধ্যবসায়, মেধা আর স্বপ্ন-এই তিনের অনন্য সমন্বয়ে দারুণ এক সাফল্য। মাগুরার ক্ষুদে শিক্ষার্থী কৌশিক চক্রবর্তী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মর্যাদার ‘ট্যালেন্টপুল’ বৃত্তি অর্জন করে সে শুধু পরিবারকেই নয়, গর্বিত করেছে তার বিদ্যালয় ও পুরো এলাকাবাসীকে।
কৌশিক মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বেজড়া নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর তার কৃতিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়।
কৌশিক ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শক্তি রাণী সিংহ রায় ও কমল চক্রবর্তীর একমাত্র সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও নম্র স্বভাবের। নিয়মিত অধ্যয়ন,শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং মা-বাবার অক্লান্ত ত্যাগ ও উৎসাহই তার এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
ছেলের এমন কৃতিত্বে আবেগাপ্লুত কৌশিকের বাবা কমল চক্রবর্তী বলেন, “এই অর্জন কৌশিকের আগামী দিনের পথচলায় নতুন আত্মবিশ্বাস যোগাবে। একই সঙ্গে সে আমাদের বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই সাফল্য দেখে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের প্রথম বড় অর্জন হিসেবে কৌশিকের এই সাফল্য শুধু একটি বৃত্তি লাভ নয়; এটি মেধা, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত। গ্রামীণ জনপদ থেকে উঠে এসে এমন গৌরবময় সাফল্য প্রমাণ করে-সুযোগ, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে প্রতিভা কোনো সীমারেখা মানে না।
পরিবারের প্রত্যাশা, কৌশিক ভবিষ্যতেও তার এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখবে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবার আশীর্বাদ কামনা করেছে তার পরিবার।
(বিএস/এসপি/জুলাই ১৩, ২০২৬)
