দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ, তথ্য লুকাতে হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পেয়ারা খসওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিশুকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া এবং গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা পর দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুমতিতে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে ধর্ষক কিশোর পলাতক রয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামেট প্রতিবেশীৃ কিশোর। পরে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ওটিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সোমবার সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির খোঁজখবর ও তথ্য নিতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় জানানো হয়, পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢোকা নিষেধ। তবে হাসপাতালের পরিচালকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহাকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি না দিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতাল প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় উপস্থিত মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের ভয়াবহতার তথ্য লুকাতেই কর্তৃপক্ষ এমন লুকোচুরি ও পেশাগত দায়িত্বে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারের আশায় সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় হাজির হন শিশুটির মা। এ সময় অভিযুক্ত কিশোরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা, চাচা ও প্রতিবেশীরাও থানার সামনে অবস্থান নেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
(আরকে/এসপি/জুলাই ১৩, ২০২৬)
