বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় জন্মদাতা বাবাকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে ঘাতক ছেলে আলীম কাজীকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ সামছুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামী আদালতে উপিস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আলীম কাজী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চর মানিকদাহ গ্রামের কাজীর বাজার এলাকার মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানাযায়, সাজাপ্রাপ্ত আলীম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর শুরু করে। তার বাবা ইসমাইল তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলীম তার বাবাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। পরদিন ১৩ মে সকালে ইসমাইল কাজী বাড়ির পাশে আখের রস বিক্রির উদ্দেশ্যে আখ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় আলীম একটি ধারালো বটি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে তার বাবার গলায় সজোরে কোপ দেন। এতে ইসমাইল কাজীর শ্বাসনালী কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পলিশের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহন শেষে আদালতের বিচারক আসামী আলীম কাজীকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাভোকেট এম এম জুলকদর বলেছেন, এ রায়ে আমার মক্কেল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এ মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ বিচারক ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছে।
আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আবু তালেব শেখ বলেন, এ কোর্টে আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। তাই আমরা ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদলতে আপিল করব।
(টিবি/এসপি/জুলাই ১৪, ২০২৬)
