নলডাঙ্গা ইউনিয়নে আতঙ্কের নাম ‘মুসা বাহিনী’
বিশেষ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা ইউনিয়নজুড়ে মুসা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও দখলবাজির অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মুসা বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আবু মুসার নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান, তরিকুল ইসলামসহ একদল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে। এরপর থেকে সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর, নারায়ণপুর, বাগুটিয়া, শালকুপা ও আড়মুখী গ্রামে চাঁদাবাজি, জমিদখল, সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মুসা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেকেই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে বের হতে অনেকেই ভয় পান। বিভিন্ন বিরোধের ঘটনাতেও মুসা বাহিনীর নাম উঠে আসে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অপরাধে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো: আসাউদজ্জামান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি, নলডাঙ্গা ইউনিয়নে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়মিত পুলিশি টহল এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
(একে/এসপি/জুলাই ১৪, ২০২৬)
