মাদকসেবী স্বামীর কাণ্ড
হাত-পা বেঁধে চুল কেটে স্ত্রীকে রাতভর নির্যাতন
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে তালাবদ্ধ ঘরে স্ত্রীকে আটকে হাত-পা বেঁধে ও মাথার চুল কেটে মধ্যযুগীয় কাদায় রাতভর নির্যাতন করেছে মাদকাসক্ত স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে।
নির্যাতনকারী মাদকাসক্ত স্বামী নাজমুল শেখ (২৮) ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মুন্সীগঞ্জ জেলার চরমুসুরিয়া গ্রামের লোকমান সরকারের মেয়ে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পুলিশ খবর পেয়ে গৃহবধূ ও দুই শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে। এ সময় নির্যাতনকারী স্বামী নাজমুলকে আটক করে।
স্থানীয়রা জানায়, মাদকসেবী স্বামী নাজমুল প্রায় নেশা করে বাড়ি ফিরত। তার স্ত্রী সোনিয়াকে মারধর করত। এরই জের ধরে সোমবার রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় হয়। এক পর্যায়ে স্বামী ঘর তালা বদ্ধ করে স্ত্রীকে আটক করে। পরে স্ত্রীর হাত-পা বেধে মাথার চুল কেটে দেয় । তারপর দুই শিশু সন্তান আবু রায়হান (৮) ও আবু মুছার (৪) সামনে রাতভর মধ্যযুগীয় কায়দায় তার ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। পরে আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গৃহবধূর চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন। পুলিশে খবর দিয়ে ঘরের তালা ভেঙ্গে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও দুই শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে। পরে মাদকসেবী স্বামী নাজমুলকে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
নির্যাতনের শিকার সোনিয়া বলেন, নেশা করে বাড়িতে এসে, মাঝে মধ্যে আমার স্বামী আমাকে সামান্য বিষয় নিয়ে মারধরে করত। সোমবার রাতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায় আমার দুই শিশু সন্তানের সামনে আমাকে হাত পা বেধে চুল কেটে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কুপিয়ে জখম করেছে। রাতভর অসহ্য নির্যাতন করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
আটক নাজমুল বলেন, আমার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই তাকে হাত পা বেধে ও চুল কেটে রেখেছি। যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে।
গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, নাজমুল মাদকসেবী। সে প্রায় মাদক সেবন করে ঘরে ফিরে তার স্ত্রীকে মারধর করে আসছিল। হাটবাজারে নাজমুল শরবতের ব্যবসা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই বলেন, নাজমুল বখাটে প্রকৃতির। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না। শশুর বাড়ি থেকে টাকা পয়সা এনে সংসার চালাত। এছাড়া শ্বশুরবাড়ির টাকায় গ্রামে ঘর তুলে বসবাস করত বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব বলেন, গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে দুই সন্তানসহ উদ্ধার করি। ওই গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনকারী স্বামী নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। স্ত্রী মামলা দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(টিবি/এসপি/জুলাই ১৪, ২০২৬)
