রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অবশেষে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই জলকপাটগুলো খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে মোট ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

জলকপাট খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন এবং কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান বলেন, ‘হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এবং বিপৎসীমা ১০৮ ফুট। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা বিবেচনায় নিয়েই কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে, হ্রদে পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

(আরএম/এসপি/জুলাই ১৮, ২০২৬)