খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রাণ। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ আর খালজুড়ে পানির সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন যেন অতীতের গল্প। বর্ষার ভরা মৌসুমেও অনেক খাল-বিলে হাঁটুসমান পানিও নেই। ফলে পাট কাটার মৌসুমে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা। পানি ও উপযুক্ত জলাশয়ের অভাবে কাটা পাট জাগ (পচানো) দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫৯ হেক্টর। তবে গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সারও বিতরণ করেছে।
এখানে প্রধানত তোষা ও দেশি (সাদা) জাতের পাট চাষ করা হয়। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উচ্চফলনশীল বেশ কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবন করলেও বর্তমানে উৎপাদিত মোট পাটের প্রায় ৮০ শতাংশই তোষা জাতের।
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, “এবার ১০ বিঘা জমিতে তোষা পাট চাষ করেছি। চার বিঘার পাট ইতোমধ্যে কেটেছি। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছি না। পানি না থাকায় পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।”
অরণকোলা এলাকার কৃষক আব্দুল কলিম বলেন, “আগে গ্রামের বিভিন্ন ডোবা-খালে সহজেই পাট জাগ দেওয়া যেত। এখন অধিকাংশ জায়গা মাছ চাষের পুকুরে রূপ নিয়েছে। ফলে পাট পচানোর মতো জলাশয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”
দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস জানান, “পাট কাটার পর কয়েক দিন জমিতে স্তুপ করে রেখে পাতা ঝরানো হয়। এরপর পানিতে ডুবিয়ে জাগ দিতে হয়। কিন্তু পানি না থাকায় কাটা পাট জমিতেই পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারছি না।”
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, “এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১০০ জন কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাছ চাষের পুকুরে পাট জাগ দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাই কৃষকদের বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত বা মজা পুকুর এবং সরকারের খনন করা খালগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব জলাশয় পাট পচানোর জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী।”
(এসকেকে/এসপি/জুলাই ১৯, ২০২৬)
