ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে ঝুটবোঝাই দু’টি ট্রাক ডাকাতি, রাতভর অভিযানে উদ্ধার
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে ট্রাকচালক ও হেলপারদের জিম্মি করে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঝুটসহ ট্রাক দুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ডাকাত চক্রের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল এলাকায় লালন শাহ সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে বাবু মণ্ডলের ওজন স্কেলে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাকশীর যুক্তিতলা গ্রামের মৃত জয়েন উদ্দিনের ছেলে জিয়াউল হাসান বিপ্লব বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী ইপিজেডের একটি কারখানা থেকে ঝুটবোঝাই ছয়টি ট্রাক বের করা হয়। বিকেলে দিয়াড় বাঘইল এলাকার ওজন স্কেলে ট্রাকগুলোর ওজন নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র সংঘবদ্ধ দল সেখানে পৌঁছে। তারা অস্ত্রের মুখে ট্রাকচালক, হেলপার এবং ওজন স্কেলের কর্মচারীদের জিম্মি করে মারধর করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ছিনিয়ে নেয়।
ডাকাতরা প্রথমে ট্রাক দুটি পাকশীর নতুন রূপপুর স্কুলসংলগ্ন একটি কড়ইগাছের নিচে কিছু সময় রেখে দেয়। পরে সেগুলো পাবনা শহরের বিসিক এলাকায় নিয়ে পুনরায় ওজন করিয়ে বাইপাস সড়কসংলগ্ন গাছপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে জিম্মি ট্রাকচালকদের উদ্ধার করে এবং ঝুটসহ ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনাকে শুধু ছিনতাই বললে ভুল হবে। এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি। কারণ, ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল এতে অংশ নেয়। আমাদের অভিযানের আগেই তারা একটি প্রাইভেট কারে পালিয়ে যায়। তবে জড়িতদের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “ঘটনার তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।”
(এসকেকে/এসপি/জুলাই ২৩, ২০২৬)
