তিন মাসে ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১০৩, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মাদক
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গত তিন মাসের কিছু বেশি সময়ে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা (খ) সার্কেল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০ জন মাদকসেবী।
একই সময়ে অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১১ কেজি গাঁজা, ৫২৯ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম হেরোইন, ১৯৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৪ লিটার চোলাই মদ এবং প্রায় এক হাজার লিটার ওয়াশ (তাড়ি তৈরির উপকরণ) উদ্ধার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ঈশ্বরদী থানায় একাধিক মাদক মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত কারবারির সংখ্যা প্রায় ৮৫ জন। এছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে পুরো উপজেলায় কয়েকশ মাদক কারবারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। ফলে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল দাবি করেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর, আমবাগান, দরিনারীচা ও মেথরপাড়াসহ যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর গ্রেফতার তৎপরতা দেখা যায় না। ফলে মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা (খ) সার্কেলের ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, পৌর এলাকার দরিনারীচায় সরকার অনুমোদিত একটি মদের দোকান রয়েছে, যেখানে কেবল লাইসেন্সধারীরাই মদ সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া রেলওয়ে কলোনি (মেথরপট্টি) এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী নদী, সড়ক ও রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট এলাকা হওয়ায় মাদক পাচারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এছাড়া এখানে কয়েকটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের বার রয়েছে, যেখানে বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয় নাগরিকরাও যান। তিনি আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্পের কিছু এলাকায়ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রবণতা সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
ওসি আরও বলেন, পুলিশ অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে। তবে তাঁদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
(এসকেকে/এসপি/জুলাই ২৩, ২০২৬)
